সাত আসনের নতুন গাড়ি

মিতসুবিশি এক্সপেন্ডারসংগৃহীত

পুরো পরিবার নিয়ে এক গাড়িতে বেড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেডান বা এসইউভি শ্রেণিতে পাঁচ আসনবিশিষ্ট গাড়ির হরেক মডেল থাকলেও সাত আসনের গাড়ির সংখ্যা নেহায়েত কম। পরিবারের সবাই বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরতে পছন্দ করেন রাজধানীর সফটওয়্যার প্রকৌশলী তানভীন খান। গাড়ির বাজার ঘুরে নতুনের মধ্যে (ব্র্যান্ড নিউ) সাত আসনের একটি গাড়ি তাঁর পছন্দ হলো। জাপানের মিতসুবিশির এক্সপেন্ডার গাড়িতে সাত আসনের সঙ্গে মিলবে আধুনিক সব প্রযুক্তির সুবিধা।

২০২৩ মডেলের মিতসুবিশি এক্সপেন্ডারে ১ দশমিক ৫ লিটারসমৃদ্ধ ১৬ ভাল্‌ভবিশিষ্ট মাইভেক ৪ সিলিন্ডারের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়িটিতে রিএনফোর্সড সাসপেনশন থাকার কারণে চলতি পথে স্বাচ্ছন্দ্য মিলবে। গাড়িটির সামনের অংশে ইংরেজি টি আকৃতির এলইডি হেডল্যাম্প, ডে লাইট রানিং লাইটের (ডিআরএল) সঙ্গে ফগলাইট এবং মিতসুবিশির লোগো রয়েছে। বৈদ্যুতিক স্টিয়ারিং–সমৃদ্ধ এ গাড়ির সবশেষ সারিতে যাওয়ার জন্য দ্বিতীয় সারির আসনের একটি বাটন চাপ দেওয়াই যথেষ্ট। আসনটি সামনে এগিয়ে প্রবেশের ব্যবস্থাও রয়েছে। সাত আসনের এ গাড়িতে সাতজন আরোহী একসঙ্গে বসলেও পা রাখতে কোনো সমস্যা হয় না। পেছনের সারিতেও মিলবে মুঠোফোন চার্জ করার সুবিধা। সাত আসনের হওয়ার পরও গাড়িটিতে ৭৮১ লিটার বুট স্পেস মিলবে। কোনো জায়গা নষ্ট না করে কেবিনের বাইরে রয়েছে অতিরিক্ত একটি চাকা (স্পেয়ার হুইল)।

৪ সিলিন্ডারবিশিষ্ট ১ হাজার ৪৯৯ সিসির এই গাড়ির অর্শ্বশক্তি ৬০০০ আরপিএমে ১০৫ হর্স পাওয়ার (এইচপি)। ১৬ ভাল্‌ভের ইঞ্জিনের সর্বোচ্চ টর্ক ৪০০০ আরপিএম এ ১৪১ এনএম। গাড়িটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা যথাক্রমে ৪ হাজার ৫৯৫, ১ হাজার ৭৯০ এবং ১ হাজার ৭৫০ মিলিমিটার। গাড়িটির ওজন ১ হাজার ২৭০ কেজি। এক্সপেন্ডারের জ্বালানি ধারণক্ষমতা ৪৫ লিটার। প্রতি লিটার জ্বালানি খরচ করে গাড়িটি শহরে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার এবং মহাসড়কে ১৪ থেকে ১৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে বলে বলা হয়েছে। শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে গাড়িটির সময় লাগে ১৫ দশমিক ৪ সেকেন্ড। মিতসুবিশি এক্সপেন্ডারের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৭০ কিলোমিটার।

এক্সপেন্ডারের মূল গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাপানের হলেও এই গাড়ি ইন্দোনেশিয়ায় তৈরি হয়েছে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স। বাংলাদেশের রাস্তা অনুপাতে যেকোনো গতিরোধক বা বন্ধুর পথ নির্বিঘ্নে পাড়ি দিতে পারে। ২২৫ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স থাকায় গাড়িটির তলদেশ রাস্তার সঙ্গে লেগে যাওয়ার সুযোগ নেই। দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (ডুয়েল এসি) থাকার ফলে পেছনের সারির যাত্রীরাও গরমে আরামদায়ক ভ্রমণের স্বাদ পাবেন।

আরও পড়ুন

২০২৩ মডেলের এ গাড়িতে নিরাপত্তার জন্য অ্যান্টি–লক ব্রেকিং সিস্টেমসহ (এবিএস) ইলেকট্রনিক ব্রেকফোর্স ডিস্ট্রিবিউশন (ইবিডি) রয়েছে। ডুয়েল এয়ারব্যাগ, আসনের নিচে জুতা রাখার স্টোরেজ, রিমোট কি-লেস এন্ট্রির (চাবি ছাড়া প্রবেশ) সাহায্যে যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ, অডিও এবং ক্রুজ কন্ট্রোলসমৃদ্ধ স্টিয়ারিং হুইল, পাওয়ার উইন্ডো, পুশস্টার্ট, অনেক গাড়ির ভিড়ে নিজের গাড়ি খুঁজে পাওয়ার সতর্ক সংকেতসহ অন্যান্য সুবিধা গাড়িটিকে আকর্ষণীয় করেছে।

মিতসুবিশি এক্সপেন্ডার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে তানভীন খান বলেন, সাতজন যাত্রীর পাশাপাশি এই গাড়ির কেবিনটি শব্দহীন (নয়েসলেস)। ফলে গাড়ির ভেতরে আলাদা স্বস্তি মেলে। এ ছাড়া গাড়ির সাউন্ড সিস্টেম ভালো। যেকোনো আসন থেকেই মুঠোফোন চার্জ করা যায়।

আরও পড়ুন

দেশের বাজারে মিতসুবিশি গাড়ি আমদানি করে র‍্যাংগস মোটরস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী বিপণন ব্যবস্থাপক রাশেদ মোশারফ বলেন, ২০২৩ মডেলের এক্সপেন্ডার গাড়িটিতে অ্যাডভান্সড ডাইনামিক শিল্ড ব্যবহার করা হয়েছে। এতে যাত্রীরা আরও বেশি সুরক্ষিত থাকবেন। এতে সাত ইঞ্চি ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম রয়েছে যাতে অ্যাপল কার প্লে এবং অ্যান্ড্রয়েড কার ব্যবহার করা যাবে।
মিতসুবিশি এক্সপেন্ডারের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। গাড়িটিতে কি-লেস এন্ট্রি থাকলেও রিয়ার ভিউ মিররগুলো রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে ভাঁজ করা যায় না। ভ্যানিটি মিরর থাকলেও অন্ধকারে আলোর সুবিধা মিলবে না। ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা নেই। সামনের চাকায় ডিস্ক ব্রেক থাকলেও পেছনের চাকায় ড্রাম ব্রেক।

ছয়টি রঙে (ডিপ ব্রোঞ্জ মেটালিক, গ্রাফাইট গ্রে মেটালিক, কোয়ার্টজ হোয়াইট পার্ল, রেড মেটালিক, ব্লেড সিলভার মেটালিক, জেড ব্ল্যাক মিকা এবং গ্রিন ব্রোঞ্জ মেটালিক) গাড়িটি পাওয়া যাচ্ছে। এটির মূল্য ৪৬ লাখ টাকা। ঈদ উপলক্ষে ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় গাড়িটি বিক্রি হচ্ছে। তিনটি বিনা মূল্যে সার্ভিসিংসহ পাঁচ বছর বা এক লাখ কিলোমিটার (যেটা আগে আসে) বিক্রয়োত্তর সেবা দেবে র‍্যাংগস মোটরস লিমিটেড।