গাড়ির ড্যাশবোর্ডে থাকা স্পর্শনির্ভর পর্দা ব্যবহারে সাবধান
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি আধুনিক মডেলের প্রায় সব গাড়ির ড্যাশবোর্ডেই আকারে বড় স্পর্শনির্ভর পর্দা দেখা যায়। গাড়িতে থাকা স্পর্শনির্ভর পর্দাযুক্ত ড্যাশবোর্ডকে বিলাসিতার প্রতীক মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা এখন এটিকে জীবনের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করছেন। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গাড়ি চালানোর সময় গান পরিবর্তন বা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্পর্শনির্ভর পর্দার ব্যবহার ফোনে বার্তা লেখার চেয়ে বেশি বিপজ্জনক। কারণ, স্পর্শনির্ভর পর্দায় নির্দিষ্ট মেনু খুঁজতে গিয়ে চালকের গাড়ি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ৫০ শতাংশের বেশি কমে যায়, যা ফোনে বার্তা লেখার সময় ৩৫ শতাংশ হয়ে থাকে। আর তাই ফোনের চেয়ে স্পর্শনির্ভর পর্দা গাড়িচালকদের মনোযোগ বেশি কেড়ে নেয়।
অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মিলান হাগানি বলেন, স্পর্শনির্ভর পর্দা মূলত দৃষ্টি, হাত ও মস্তিষ্ক—এ তিনটি জায়গায় চালকের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়। মেনু পড়ার জন্য স্পর্শনির্ভর পর্দার দিকে তাকাতে হয়। এরপর সঠিক অপশনে ক্লিক করার জন্য হাত স্টিয়ারিং থেকে সরানোর পাশাপাশি কীভাবে কাজ করতে হবে, তা ভাবতে গিয়ে মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। সব কটি বিষয়ই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
নেভিগেশন বা রিভার্স ক্যামেরার জন্য স্পর্শনির্ভর পর্দা কার্যকর হলেও মৌলিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বাটনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, গাড়ির বিভিন্ন বাটন না তাকিয়েই ব্যবহার করা যায়। ফলে চালক রাস্তা থেকে চোখ না সরিয়ে প্রয়োজনীয় সব কাজ করতে পারেন। অপর দিকে স্পর্শনির্ভর পর্দার ক্ষেত্রে রাস্তা থেকে অনেক বেশি সময় চোখ সরিয়ে রাখতে হয়।
নিরাপত্তার এই উদ্বেগকে আমলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড নতুন নিয়ম চালু করতে যাচ্ছে। নতুন এ নিয়মের আওতায় কোনো গাড়ি যদি ফাইভ স্টার সেফটি রেটিং পেতে চায়, তবে গুরুত্বপূর্ণ ফিচারের মধ্যে ইনডিকেটর, উইন্ডস্ক্রিন ওয়াইপার, হর্ন ও হেডলাইটের জন্য অবশ্যই ফিজিক্যাল বাটন বা লিভার থাকতে হবে।
সূত্র: ডেইলি মেইল