দেশের বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ই-বাইক ও ই-স্কুটার, দাম শুরু ৪৯ হাজার টাকা থেকে
জ্বালানি তেলের খরচ বাঁচানোর পাশাপাশি পরিবেশসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে ইলেকট্রিক বাইক (ই-বাইক) ও ই-স্কুটারের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। কম খরচে যাতায়াত আর পরিবেশবান্ধব ফিচারের কারণে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কর্মজীবীদের অনেকেই এখন তেলে চলা মোটরসাইকেলের বিকল্প হিসেব নিয়মিত ই-বাইক ও ই-স্কুটার ব্যবহার করছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি ব্র্যান্ডের ই-বাইক ও ই-স্কুটারের বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
১. রাইডু লিফ ব্ল্যাক ই-বাইক
সাশ্রয়ী বাজেটের ই-বাইকের মধ্যে রাইডু লিফ ব্ল্যাক ই-বাইক অন্যতম। ৫০০ ওয়াটের মোটর ও ৪৮ ভোল্টের গ্রাফিন ব্যাটারিযুক্ত ই-বাইকটির চাকার আকার ১৪ ইঞ্চি এবং এটি ১৫০ কেজি পর্যন্ত ভার বহন করতে পারে। ৩টি গিয়ার মোডযুক্ত ই-বাইকটি একবার পূর্ণ চার্জে ৫০ কিলোমিটারের বেশি পথ চলতে পারে। রিমোট কন্ট্রোল ও কি-স্টার্ট ফিচারের কারণে এটি বেশ আধুনিক ই-বাইক। দাম ৪৯ হাজার টাকা।
২. রিভো এ০৪
কম দূরত্বে যাতায়াতের জন্য রিভো এ০৪ একটি স্টাইলিশ ই-বাইক। ই-বাইকটির ওজন মাত্র ৫২ কেজি, ফলে সহজেই চালানো যায়। ৩৫০ ওয়াটের মোটর ও ৪৮ ভোল্টের গ্রাফিন ব্যাটারিযুক্ত ই-বাইকটি সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার গতিতে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। দাম ৪৯ হাজার ৯৯০ টাকা।
৩. রাইডু ব্লেজ-হোয়াইট ইলেকট্রিক স্কুটার
রাইডু ব্লেজ একটি প্রিমিয়াম ইলেকট্রিক স্কুটার। এতে ১০০০ ওয়াটের শক্তিশালী মোটর ও ৬০ ভোল্টের গ্রাফিন লেড অ্যাসিড ব্যাটারি রয়েছে। ইলেকট্রিক স্কুটারটিতে ৩৯ লিটার স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ও রিভার্স গিয়ার সিস্টেম রয়েছে। অ্যান্টিথেফট অ্যালার্ম ও অটোমেটিক মোটর লক সিস্টেম–সুবিধার ইলেকট্রিক স্কুটারটি সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার গতিতে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পথ চলতে পারে। দাম ৭৫ হাজার টাকা।
৪. তাকিওন লিও
ওয়ালটনের তাকিওন লিও মডেলের ই-বাইকটিতে রয়েছে ৮০০ ওয়াটের হাব মোটর ও ৪৮ ভোল্টের সিলড লেড অ্যাসিড ব্যাটারি। মাত্র ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা চার্জে এটি ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। ই-বাইকটির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৮৫ মিলিমিটার, যা বাংলাদেশের রাস্তার জন্য বেশ উপযোগী। সর্বোচ্চ ৩৫ কিলোমিটার গতিতে চলা ই-বাইকটির দাম ৭৮ হাজার ৭৫০ টাকা।
৫. আকিজ পঙ্খিরাজ
আকিজ পঙ্খিরাজ মডেলের ই-বাইকটিতে এক হাজার ওয়াটের মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাটারি অপশন হিসেবে ভিআরএলএ বা লিথিয়াম ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ব্যাটারির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ই-বাইকটি একবার চার্জে সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ডিস্ক ও ড্রাম ব্রেকের সমন্বয়ে তৈরি ই-বাইকটির দাম ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা।
৬. রিভো এ১১
শহরের ব্যস্ত রাস্তায় দ্রুত চলার জন্য রিভো এ১১ মডেলের ই-বাইক বেশ কার্যকর। ১ হাজার ওয়াটের মোটর ও ৬০ ভোল্টের ২৬ অ্যাম্পিয়ারের গ্রাফিন ব্যাটারি থাকায় ই-বাইকটি একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ৮৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। ১০ ইঞ্চি টিউবলেস টায়ার ও হাইড্রোলিক শক অ্যাবজর্ভার থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করা যায় ই-বাইকটিতে। দাম ৮৯ হাজার ৯৯০ টাকা।
৭. ওয়ালটনের তাকিওন লিও ২৫টি২
ওয়ালটনের তাকিওন লিও ২৫টি২ মডেলের ই-বাইকটিতে ৬০ ভোল্ট ও ২৩ অ্যাম্পিয়ারের গ্রাফিন লেড অ্যাসিড ব্যাটারি রয়েছে। ই-বাইকটির আসনের উচ্চতা ৭৪০ মিলিমিটার, যা চালকের জন্য বেশ আরামদায়ক। সামনে ডিস্ক ব্রেক ও পেছনে ড্রাম ব্রেকযুক্ত ই-বাইকটি একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। দাম: ৯৪ হাজার ৯৯০ টাকা
৮. ইভেকো এএস ১
ইভেকো এএস ১ একটি আধুনিক প্রযুক্তির স্কুটার। ১ হাজার ওয়াটের ব্রাশলেস মোটর এবং ৭২ ভোল্ট ২৯ অ্যাম্পিয়ারের পিওর গ্রাফিন ব্যাটারিযুক্ত স্কুটারটির গতি সর্বোচ্চ ৫২ কিলোমিটার। একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম স্কুটারটিতে রয়েছে অ্যান্টিথেফট অ্যালার্ম ও এলইডি হেডলাইট। ১৮০ কেজি পর্যন্ত ভার বহন করতে সক্ষম স্কুটারটির দাম ৯৮ হাজার টাকা।
৯. সিনট্যাক্স লিমা
সিনট্যাক্স লিমা একটি স্মার্ট ও নিরাপদ ই-স্কুটার। এতে ১ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াটারপ্রুফ মোটর ব্যবহার করা হয়েছে, যা বৃষ্টির দিনেও নিরাপদ। গ্রাফিন ব্যাটারিচালিত এই স্কুটার একবার পূর্ণ চার্জে ৮০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিতে পারে। আধুনিক অ্যান্টিথেফট সিস্টেম ও এলইডি লাইটযুক্ত ই-স্কুটারটির দাম ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা।
১০. ইভেকো এএস-১২
ইভেকো এএস–১ মডেলের হালনাগাদ সংস্করণ হলো এএস-১২। এতে ১ হাজার ২০০ ওয়াটের মোটর এবং ৬০ ভোল্ট ৩৮ অ্যাম্পিয়ারের গ্রাফিন ব্যাটারি রয়েছে। বাহনটি সর্বোচ্চ ৫৫ কিলোমিটার গতিতে ৯৫ থেকে ১১০ কিলোমিটার পথ চলতে সক্ষম। ১২ ইঞ্চি অ্যালয় হুইল ও ডুয়াল ডিস্ক ব্রেকযুক্ত বাহনটির দাম ১ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা।
১১. আকিজ দুরন্ত
আকিজ দুরন্ত মডেলে রয়েছে ১ হাজার ২০০ ওয়াটের শক্তিশালী মোটর। ৫০ কিলোমিটার সর্বোচ্চ গতিসম্পন্ন এই বাইক ১৫০ কেজি পর্যন্ত ভার বহন করতে পারে। ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা চার্জে সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার চলতে সক্ষম স্কুটারটিতে আকারে বড় চাকা থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করা যায়। দাম ১ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা।
১২. ইয়াদিয়া রুইবিন
ইয়াদিয়া রুইবিন স্কুটারটি নারী শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। স্কুটারটিতে ৮০০ ওয়াটের শক্তিশালী হাব মোটর রয়েছে, যা ৮০ এনএম টর্ক জেনারেট করতে পারে। সামনে ডিস্ক ও পেছনে ড্রাম ব্রেকযুক্ত স্কুটারটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার। হাইড্রোলিক শক অ্যাবজর্ভেশন সিস্টেম থাকায় ভাঙাচোরা রাস্তায়ও এটি বেশ মসৃণভাবে চলতে পারে। এলইডি মিটার, অ্যান্টিথেফট প্রযুক্তি, ইউএসবি চার্জার ও পার্কিং মোডযুক্ত স্কুটারটির দাম ১ লাখ ১০ হাজার টাকা।
১৩. সিনট্যাক্স রায়ো
সিনট্যাক্স রায়ো মডেলের স্কুটারটিতে ১.২ কিলোওয়াট মোটরের সঙ্গে ৭২ ভোল্টের গ্রাফিন ব্যাটারি থাকায় একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। সামনে টেলিস্কোপিক এবং পেছনে ডুয়াল অ্যাডজাস্টেবল সাসপেনশন–সুবিধার স্কুটারটিতে ২৫৩ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করা যায়। দাম ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
১৪. ইয়াদিয়া এম৬
ইয়াদিয়া এম৬ ই-স্কুটারটিতে ১ হাজার ২০০ ওয়াটের টিটিএফএআর মোটর ও ৭২ ভোল্ট ২৬ অ্যাম্পিয়ারের গ্রাফিন ব্যাটারি রয়েছে। ই-স্কুটারটির সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার এবং রেঞ্জ ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। কি-লেস স্টার্ট ফিচারের কারণে এটি আধুনিক গ্রাহকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। দাম ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
১৫. তাকিওন লিও ২৫টি১
ওয়ালটনের তাকিওন লিও ২৫টি১ মডেলের ই-বাইকটিতে গ্রাফিন লেড অ্যাসিড ব্যাটারি রয়েছে, যা সাধারণ ব্যাটারির চেয়ে বেশি টেকসই। ৬০ ভোল্টের সিস্টেম এবং ৮০০ ওয়াটের ব্রাশলেস ডিসি মোটরযুক্ত ই-বাইকটির সামনে ডিস্ক এবং পেছনে ড্রাম ব্রেক সিস্টেম রয়েছে। একবার পূর্ণ চার্জে ৩৫ কিলোমিটার গতিতে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার পথ চলতে সক্ষম ই-বাইকটির দাম ১ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা।
১৬.তাকিওন ১.০০
ওয়ালটনের তাকিওন ১.০০ (২৬ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার) ই-বাইকটি বেশ শক্তিশালী। এতে ১.২ কিলোওয়াট রেটেড পাওয়ারের ডিসি ব্রাশলেস মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার গতিতে পথ চলতে সক্ষম ই-বাইকটিতে ১ হাজার ৮৭২ ওয়াট-আওয়ারের গ্রাফিন ব্যাটারি রয়েছে। একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার পথ চলতে সক্ষম ই-বাইকটিতে ১৮০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করা যায়। এলসিডি স্পিডোমিটার ও ডুয়াল ডিস্ক ব্রেকযুক্ত ই-বাইকটির দাম ১ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা।
১৭. টেলজি ফনিক্স এফ৭৩
টেলজি ফনিক্স মডেলের স্কুটারটিতে ২ হাজার ওয়াটের মোটর ও ৭২ ভোল্ট–৩৮ অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারি রয়েছে। ফলে একবার পূর্ণ চার্জে সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার গতিতে ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার চলতে পারে। ডিস্ক সিবিএস ব্রেকযুক্ত স্কুটারটির দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯০ টাকা।
১৮. টেলজি লিওপার্ড এফ৭২
দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য টেলজি লেপার্ড এফ৭২ একটি উপযুক্ত স্কুটার। ৯৬ ভোল্ট ৫২ অ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির এ স্কুটার একবার পূর্ণ চার্জে ১৮০ কিলোমিটার পথ চলতে পারে। ৩ হাজার ওয়াটের শক্তিশালী মোটর থাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার গতিতে পথ চলা যায়। সিবিএস ব্রেকিং সিস্টেম ও টিউবলেস টায়ারযুক্ত স্কুটারটির দাম ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৯০ টাকা।
১৯. রিভো ই৫২
পাওয়ারফুল পারফরম্যান্সের জন্য রিভো ই৫২ একটি আদর্শ ই-স্কুটার। ৩ হাজার ওয়াটের মোটর এবং ৯৬ ভোল্টের ব্যাটারিযুক্ত স্কুটারটিতে ঘণ্টায় ৭৭ কিলোমিটার গতিতে ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। সিবিএস–যুক্ত ডুয়াল ডিস্ক ব্রেক ও উন্নত কন্ট্রোলারযুক্ত স্কুটারটির দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ৯০০ টাকা।
প্রাপ্তিস্থান
বাংলাদেশে ইলেকট্রিক স্কুটার ও ই-বাইক কেনার জন্য এখন আর আগের মতো বেগ পেতে হয় না। ওয়ালটন, আকিজ মটরস, রানার (ইয়াদিয়া), টেইলজির মতো শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর নিজস্ব শোরুম এখন ঢাকাসহ সারা দেশের বিভাগীয় শহরগুলোয় ছড়িয়ে আছে। ঢাকার তেজগাঁও, মিরপুর, রামপুরা ও বংশাল এলাকা ই-বাইকের প্রধান হাব হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া রিভো ও ইভেকোর মতো ব্র্যান্ড তাদের ডিলার নেটওয়ার্ক ও অনলাইন শপের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দিচ্ছে।