ঈদে নিজের গাড়িতে দূরে ভ্রমণের আগে যে ৮ বিষয় জানতে হবে
ঈদের ছুটি বা উৎসবের আমেজ মানেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। আর ভ্রমণ যদি হয় নিজের গাড়িতে, তবে আনন্দের মাত্রা দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবে এই আনন্দের যাত্রা যান্ত্রিক ত্রুটি বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য যাত্রা শুরুর আগে গাড়ি ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদে ভ্রমণের আগে করণীয় বিষয়গুলো জেনে নেওয়া যাক।
১. গাড়ির তরলের মাত্রা পরীক্ষা
ইঞ্জিনের মসৃণ কার্যকারিতা বজায় রাখতে গাড়ির বিভিন্ন ফ্লুইড বা তরলের মাত্রা ইঞ্জিন অয়েল ডিপস্টিক (ইঞ্জিন অয়েলের পরিমাণ এবং গুণগত মান পরীক্ষা করার বিশেষ কাঠি) দিয়ে পরীক্ষা করে নিন। ইঞ্জিন অয়েল কালচে বা কমে গেলে বদলে ফেলতে হবে। গরমের দিনে গাড়ি ওভারহিট বা অতিরিক্ত গরম হওয়া ঠেকাতে রেডিয়েটরে পর্যাপ্ত কুল্যান্ট আছে কি না দেখুন। ব্রেক ফ্লুইড ও উইন্ডশিল্ড ওয়াইপার ফ্লুইড, ব্রেক ও গিয়ার অয়েল ঠিকঠাক আছে কি না এবং কাচ পরিষ্কার করার পানি পর্যাপ্ত আছে কি না তা–ও পরীক্ষা করতে হবে।
২. চাকার অবস্থা সম্পর্কে জানুন
গাড়ির চাকায় হাওয়ার চাপ ঠিক থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হালনাগাদ প্রযুক্তির গাড়িতে টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম বা টিপিএমএস থাকে। সে অনুযায়ী চাকায় হাওয়ার পরিমাণ ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করুন অথবা দোকানে গিয়ে মেশিনের সাহায্যে চাকায় সঠিক পরিমাণের হাওয়া দিন। এরপর টায়ারের খাঁজ (গ্রিপ) পরীক্ষা করুন। যদি বেশি ক্ষয় হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে গাড়ি স্কিড করার ঝুঁকি থাকে। ম্যাচের কাঠি দিয়ে সহজেই চাকার খাঁজ পরীক্ষা করা যায়। যদি ন্যূনতম গ্যাপ না থাকে তবে চাকা বদলে ফেলাই ভালো। নতুন মডেলের গাড়িগুলোতে অতিরিক্ত চাকার বদলে টায়ার সিলেন্ট থাকে। সুতরাং গাড়ি পাংচার হলেও সহজে সারিয়ে নেওয়া যায়।
৩. ব্রেক পরীক্ষা
মহাসড়ক বা পাহাড়ি রাস্তা অথবা মহল্লার গলি, ব্রেক ঠিকমতো কাজ না করলে বড় বিপদ হতে পারে। ব্রেক প্যাডেল চাপলে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ হচ্ছে কি না বা ব্রেক ঢিলা লাগছে কি না, খেয়াল করুন। সামান্যতম সন্দেহ হলেও মেকানিক দিয়ে ব্রেক প্যাড চেক করিয়ে নিন। ব্র্যাক প্যাড বেশি ক্ষয় হলে পরিবর্তন করে নিন।
৪. জেনে নিন ব্যাটারি ও লাইটের অবস্থা
গাড়ি চালু করা থেকেই ব্যাটারির ভূমিকা শুরু। তাই ব্যাটারি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, দেখে নিন। ব্যাটারির সংযোগের স্থান শক্ত আছে কি না এবং টার্মিনালে কোনো মরিচা বা সাদা আস্তরণ পড়েছে কি না দেখুন। ব্যাটারির মেয়াদ শেষের দিকে হলে তা বদলে ফেলাই ভালো। হেডলাইট (হাই ও লো বিম), ব্যাকলাইট, ব্রেক লাইট এবং চারপাশের সংকেত বাতি ঠিকঠাক জ্বলছে কি না, পরীক্ষা করুন।
৫. বেল্ট ও হোস পাইপ
ইঞ্জিন বের ভেতরের ড্রাইভ বেল্টগুলোতে কোনো ফাটল বা আলগা ভাব আছে কি না, চোখ বুলিয়ে নিন। এ ছাড়া রেডিয়েটর বা অন্যান্য পাইপ দিয়ে কোনো কিছু বের হয় কি না, তা–ও পরীক্ষা করুন।
৬. গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা
যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি আইনি জটিলতা এড়াতে গাড়ির সব বৈধ কাগজ, যেমন ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ইনস্যুরেন্সের কাগজপত্রের মেয়াদ আছে কি না, তা পরীক্ষা করে নিন।
৭. যাত্রা শুরুর আগে চালককে বিশ্রাম
কাজ ও বিশ্রাম একই সুতায় গাঁথা। তাই দূরের যাত্রায় যাওয়ার আগে চালকের পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া জরুরি। চালক ক্লান্তিবোধ করলে গাড়ি থামিয়ে চা পানের পাশাপাশি চোখেমুখে পানির ঝাপটা দিতে হবে। রাস্তা সম্পর্কে ধারণা নিতে জিপিএস বা গুগল ম্যাপ ব্যবহার করুন। এতে কোনো রাস্তায় বেশি যানজট থাকলে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাবে।
৮. গাড়ির গতি সীমিত রাখা
যত গতি তত ক্ষতি—এ কথা মাথায় রেখে নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালান। মহাসড়কে রাস্তাভেদে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালালে ইকো মোডে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি যাত্রাও হবে নিরাপদ।