আয়কর রিটার্ন যাঁদের দিতে হবে

আয়কর আইন অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত ফরমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। করদাতার বার্ষিক আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য নির্ধারিত ফরমে উপস্থাপন করাই হচ্ছে আয়কর রিটার্ন। যাঁদের ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন রয়েছে, তাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। আয়কর রিটার্নে সরকার নির্ধারিত একটি ফরমে করদাতা তাঁর আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য লিখে কর কার্যালয়ে জমা দেন। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের করদাতাদের জন্য আলাদা রিটার্ন জমা দিতে হয়।

রিটার্ন দাখিল করলেই যে আয়কর দিতে হবে, তা নয়। কারও আয় যদি করযোগ্য না হয়, তাহলে তাঁকে কর পরিশোধ করতে হবে না, শুধু রিটার্ন জমা দিলেই হবে। যে বছর আয়কর দেবেন, তার আগের অর্থবছর অর্থাৎ, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব করে ২০২২ সালের আয়কর দিতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশি কোনো নাগরিকের বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও যাতায়াত ভাতা বাদ দিয়ে বছরে তিন লাখ টাকার বেশি আয় হলেই তাঁকে আয়কর দিতে হয়। এ ছাড়া মূল বেতন ১৬ হাজার টাকার বেশি হলেই কর দিতে হবে। আয়কর দেওয়ার জন্য তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি, নারী ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী করদাতার আয় বছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি, গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় বছরে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি এবং প্রতিবন্ধী করদাতার আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি হতে হবে।

কখন জমা দিতে হয়

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় হচ্ছে জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। সাধারণত প্রতি অর্থবছরের এই পাঁচ মাস জরিমানা ছাড়া বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তি করদাতারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। আয়কর মেলাতেও আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যায়। রিটার্ন দাখিলের সময় করদাতা বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসেও রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।

অনলাইনে যেভাবে আয়কর রিটার্ন

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পাশাপাশি ঘরে বসেই সনদ, আয়কর রিটার্নের কপি সংগ্রহ করা যায়। রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদনও করা যায়। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য প্রথমেই etaxnbr.gov.bd লিংক বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (https://nbr.gov.bd/) প্রবেশ করতে হবে। এবার ই-রিটার্ন অপশন নির্বাচন করে নিজের ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নম্বরটি যাচাইয়ের জন্য ছয় অক্ষরের একটি ওটিপি কোড আসবে ফোনে।

কোডটি জমা দেওয়ার পর অ্যাকাউন্টের জন্য পাসওয়ার্ড দিতে হবে। পাসওয়ার্ড অবশ্যই শক্তিশালী হতে হবে। নিবন্ধন করার সঙ্গে সঙ্গে আপনার একটি ই-রিটার্ন অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে। নিবন্ধন হয়ে গেলে সাইন ইন করতে হবে। যাঁদের করযোগ্য আয় নেই বা ‘জিরো ট্যাক্স’, তাঁরা প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। যাঁদের করযোগ্য আয় রয়েছে, তাঁদের কর দিতে হবে। এ জন্য ওয়েবসাইট থেকেই জেনে নেওয়া যাবে কর বা রেয়াতের পরিমাণ, রিটার্নের সঙ্গে কত টাকা জমা দিতে হবে ইত্যাদি তথ্য। ‘প্রাপ্তিস্বীকার’ স্লিপটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে।

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুবিধা

নির্দিষ্ট সময় আয়কর জমা না দিলে জরিমানাসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হতে পারে। জমি নিবন্ধন থেকে শুরু করে ইউটিলিটি সংযোগ, ক্রেডিট কার্ডসহ ৩৮টি সেবা পেতে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। যাঁদের টিআইএন নম্বর আছে, তাঁদের অবশ্যই আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে বাৎসরিক আয় করযোগ্য না হলে কর দিতে হবে না।

অনেকেরই ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন নেই। কেউ আবার প্রথমবারের মতো টিআইএন খুলতে চাচ্ছেন। চাইলে টিআইএন তৈরি করা যায় অনলাইনে। জাতীয় পরিচয়পত্র, ফোন নম্বর বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আরজেএসসি নম্বর থাকলেই অনলাইনে আয়কর নিবন্ধন করা যাবে।

টিআইএন কীভাবে করবেন

অনলাইনে আয়কর নিবন্ধনের জন্য প্রথমেই আয়কর ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন হয়ে গেলে আয়কর সাইটে লগইন করে আবেদন করে টিন সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে। আবেদনের জন্য প্রথমে https://www.incometax.gov.bd –তে প্রবেশ করতে হবে। আয়কর ওয়েবসাইটের মেনু থেকে রেজিস্ট্রার বাটনে ক্লিক করতে হবে। রেজিস্ট্রার ফরমের শূন্য ঘরগুলো প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে পূরণ শেষে রেজিস্ট্রার বাটন ক্লিক করতে হবে।

রেজিস্ট্রার ফরমে দেওয়া আপনার ফোন নম্বরে তাৎক্ষণিকভাবে একটি কোড আসবে এবং পর্দায় থাকা ডায়ালগ বক্সে কোডটি লিখতে হবে। এরপর রেজিস্ট্রার বাটন ক্লিক করলেই টিন আবেদন করার ফরমসহ ‘ওয়েলকাম টু ট্যাক্সপেয়ার আইডেনটিফিকেশন নম্বর রেজিস্ট্রেশন/রি-রেজিস্ট্রেশন’ বার্তা দেখা যাবে। এখন লগইন অবস্থায় টিন সার্টিফিকেটের আবেদন করে তাৎক্ষণিকভাবে আয়কর সনদ ডাউনলোড করা যাবে।