অ্যালগরিদম কি সত্যিই মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অ্যালগরিদমের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজনরয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যালগরিদম মানুষের চিন্তা ও মনোযোগের ওপর ক্রমেই প্রভাব বিস্তার করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংকের সার্জারি বিভাগের প্রধান ড্যানিশ হুসেইন। তাঁর মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে তৈরি এসব অ্যালগরিদম প্রতিদিনই ব্যবহারকারীদের মনোযোগ আকর্ষণ এবং তাঁদের আচরণ প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তাই এ ধরনের প্রযুক্তির প্রভাব সম্পর্কে মানুষের সচেতন থাকা প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুসেইন জানান, ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে তৈরি অ্যালগরিদম মানুষের আগ্রহ ও আচরণ বিশ্লেষণ করে তাঁদের সামনে এমন বিষয়বস্তু তুলে ধরে, যাতে তাঁরা দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকেন। মানুষের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অ্যালগরিদম সেই স্বাধীনতার ওপর ক্রমেই প্রভাব বিস্তার করছে। অ্যালগরিদম একধরনের অন্তর্নিহিত অশুভ শক্তির মতো কাজ করে, যা ব্যবহারকারীর পরবর্তী চিন্তার বিষয়টিও নির্ধারণ করার চেষ্টা করে। তাই মানুষের উচিত নিজের মন ও চিন্তার স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখা।

হুসেইনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এক্সএআইয়ের সাবেক প্রকৌশলী বেঞ্জামিন ডি ক্রাকার জানান, স্বয়ং ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্রেইন সার্জন বলেছেন, অ্যালগরিদম প্রতিহত করুন। মূলত একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ড্যানিশ হুসেইন জানেন যে এই প্রযুক্তি মানুষের মস্তিষ্কের ওপর কতটা জটিল প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রযুক্তিবিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকেন। সাধারণত ব্যবহারকারীর আগ্রহ ও পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়বস্তুই বেশি দেখানো হয়। এর ফলে ব্যবহারকারীরা স্বাভাবিকভাবেই আরও বেশি সময় ওই মাধ্যম ব্যবহার করতে আগ্রহী হন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের মধ্যে আসক্তির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে মনোযোগ কমে যাওয়া এবং শিশুদের ক্ষেত্রে এডিএইচডি এর মতো উপসর্গ বৃদ্ধির সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের মস্তিষ্ক ও যন্ত্রের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করার কাজ করছে নিউরালিংক। এ জন্য ব্রেন কম্পিউটার ইন্টারফেসেস (বিসিআইএস) প্রযুক্তির তারহীন চিপ তৈরির পাশাপাশি সেগুলো একাধিক গুরুতর স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাথায় বসিয়েছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে