কর্মীদের তথ্য ফাঁস হওয়ায় এআই প্রশিক্ষণ প্রকল্প স্থগিত করল মেটা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলকে প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় তিন মাস ধরে কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহারের খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করছিল মেটা। ‘মডেল ক্যাপাবিলিটি ইনিশিয়েটিভ’ (এমসিআই) নামের একটি প্রকল্পের আওতায় কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মাউসের নড়াচড়া, ক্লিক, কি–বোর্ডে লেখা তথ্য এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর কম্পিউটারের পর্দার ছবি সংগ্রহ করত প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি এসব তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে নিজেদের এআই প্রশিক্ষণ প্রকল্প স্থগিত করেছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডসের মূল প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ওয়্যার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কর্মী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য চালু করেছিল মেটা। প্রকল্পের আওতায় কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মাউসের নড়াচড়া, ক্লিক, কি–বোর্ডে লেখা তথ্য এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর কম্পিউটারের পর্দার ছবি সংগ্রহ করা হতো। কর্মক্ষেত্রে মানুষ কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করে, সে তথ্য শেখানোর মাধ্যমে এআই মডেলকে আরও কার্যকরভাবে প্রশিক্ষণ দিতেই প্রকল্পটি চালু করেছিল মেটা। তবে শুরু থেকেই কর্মীদের অনেকে প্রকল্পটিকে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে সমালোচনা করেছিলেন।
ওয়্যার্ডের তথ্যমতে, প্রায় ৪৫ হাজার ফাইলের মধ্যে মেটার কর্মীদের এআই প্রম্পট ব্যবহার, কথোপকথনের অনুবাদ, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন কাজ সম্পন্নের বিস্তারিত তথ্য ছিল। বিজনেস ইনসাইডারের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটিকে মেটা অভ্যন্তরীণভাবে ‘এসইভি ২’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তাঝুঁকি মূল্যায়নব্যবস্থায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুতর স্তর। কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বোসওয়ার্থ স্বীকার করেছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় গোপনীয়তা মূল্যায়নের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
কর্মীদের তথ্য চুরির বিষয়ে মেটার মুখপাত্র ট্রেসি ক্লেটন বলেন, প্রকল্পটি চালুর সময় গোপনীয়তা সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কর্মী অননুমোদিতভাবে এসব তথ্য ব্যবহার করেছেন—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গত সোমবার প্রথমবারের মতো একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় ঘটনাটি শনাক্ত করা হয়। পরে সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া