র‍্যানসমওয়্যার হামলার দায় স্বীকার করলেন দুই সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ

সাইবার হামলার প্রতীকী ছবিরয়টার্স

ব্ল্যাকক্যাট (এএলপিএইচভি) র‍্যানসমওয়্যারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগ স্বীকার করেছেন দুই সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা হলেন জর্জিয়ার ওয়াটকিনসভিলের বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী রায়ান ক্লিফোর্ড গোল্ডবার্গ এবং টেক্সাসের রোয়ানোকের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী কেভিন টাইলার মার্টিন।

মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যমতে, গত বছরের নভেম্বরে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাণিজ্য কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি ও অনলাইনে চাঁদাবাজির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। পরে তাঁরা আদালতে দোষ স্বীকার করেন। আগামী ১২ মার্চ ২০২৬ এই মামলায় তাঁদের সাজা ঘোষণা করা হবে। প্রতিটি অভিযোগে তাঁদের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের মে থেকে নভেম্বরের মধ্যে গোল্ডবার্গ ও মার্টিন আরেক সহযোগীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেন। পরে ব্ল্যাকক্যাট র‍্যানসমওয়্যার ব্যবহার করে সেসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য এনক্রিপ্ট করে অর্থ দাবি করা হয়। ব্ল্যাকক্যাট চক্রের র‍্যানসমওয়্যার ও চাঁদাবাজির অবকাঠামো ব্যবহারের বিনিময়ে আদায় করা অর্থের ২০ শতাংশ ওই অপরাধ চক্রকে দেওয়া হতো। রায়ান ক্লিফোর্ড গোল্ডবার্গ এর আগে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সিগনিয়ায় ইনসিডেন্ট রেসপন্স ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে কেভিন টাইলার মার্টিন কর্মরত ছিলেন ডিজিটালমিন্টে, যেখানে তিনি র‍্যানসমওয়্যার হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মুক্তিপণসংক্রান্ত আলোচনার দায়িত্ব পালন করতেন।

আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হামলার শিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ওষুধ, প্রকৌশল, যন্ত্র ও ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তিন লাখ ডলার থেকে শুরু করে এক কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হয়েছিল।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এফবিআই ব্ল্যাকক্যাট চক্রের সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং ডিক্রিপশন কি সংগ্রহ করে। পরে এসব তথ্যের ভিত্তিতে একটি ডিক্রিপশন টুল তৈরি করা হয়। এফবিআইয়ের হিসাবে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্ল্যাকক্যাট চক্র এক হাজারের বেশি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অন্তত ৩০ কোটি ডলার অর্থ আদায় করেছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এফবিআই, সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ যৌথ সতর্কতায় জানায়, ব্ল্যাকক্যাটের সহযোগীরা প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলা চালাচ্ছে।

সূত্র: ব্লিপিং কম্পিউটার