৪৭ লাখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল ইন্দোনেশিয়া, কেন

প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের প্রায় ৪৭ লাখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির নতুন অনলাইন নিরাপত্তা নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর টিকটক ও ইউটিউব এসব অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রী মেউত্যা হাফিদ জানিয়েছেন, বন্ধ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ টিকটকের এবং প্রায় ৬ লাখ ইউটিউবের। সরকারের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে মেউত্যা হাফিদ আরও বলেন, ‘আমরা শুধু শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ বিলম্বিত করতে চাই না, প্রযুক্তি মাধ্যমগুলোর আচরণেও পরিবর্তন দেখতে চাই।’ তাঁর মতে, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া সেলফ ইভালুয়েশন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে সরকার।

গত মার্চে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন একটি বিধিমালা চালু করে ইন্দোনেশিয়া। এ বিধিমালা অনুযায়ী, ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করতে হবে।

বর্তমানে টিকটক, ইউটিউব, এক্স, মেটার ইনস্টাগ্রাম এবং অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম রোবলক্স এই বিধিমালার আওতায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বয়সসীমা কার্যকরের দায়িত্ব অভিভাবক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর না দিয়ে সরাসরি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরই দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বয়সসীমার নিচে থাকা ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেই পালন করতে হবে। এ পর্যন্ত শুধু টিকটক ও ইউটিউবের তথ্য প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়ার সরকার। এক্স, ইনস্টাগ্রাম ও রোবলক্সে কত অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য জানানো হয়নি। সরকারের ধারণা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত পর্যালোচনা শেষ হলে এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।

সরকারের মতে, শিশু-কিশোরদের অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে সাইবার বুলিং, অনলাইন আসক্তি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ঝুঁকি বাড়ছে। নতুন এ উদ্যোগের লক্ষ্য, এসব ঝুঁকি কমিয়ে শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করা।

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নীতিমালা গ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের জেরে গত বছর একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দেশটির এ উদ্যোগ এখন অন্যান্য দেশের নীতিনির্ধারকদেরও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যও শিশুদের জন্য অনলাইন নিরাপত্তা নীতিমালা আরও কঠোর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। চলতি মাসে দেশটি জানিয়েছে, নতুন বিধিনিষেধের আওতায় গেমিং ও সরাসরি সম্প্রচার প্ল্যাটফর্মকেও যুক্ত করা হবে।

তবে শিশু ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম কী পদ্ধতি ব্যবহার করছে কিংবা কীভাবে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করা হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইন্দোনেশিয়া সরকার। প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর জমা দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া