সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশে সরকারের প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন

সৈয়দ আলমাস কবীরছবি: সংগৃহীত

দেশের সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশের জন্য সরকারের প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর। জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সফটওয়্যার শিল্পের বিকাশের জন্য এবারের বাজেটে প্রণোদনা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। আমি মনে করি, দেশের সফটওয়্যার শিল্পের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অর্থায়নের সুযোগ। আর তাই এ শিল্পের বিকাশের জন্য সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণেরও ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে সফটওয়্যারকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার ব্যবস্থা করতে হবে।

সব সরকারি প্রকল্পে দেশে তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, সফটওয়্যার শিল্পের রপ্তানি ইনসেনটিভ বা নগদ প্রণোদনা আরও বাড়াতে হবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার এ সময়ে রপ্তানি প্রণোদনা বৃদ্ধি করা হলে একদিকে যেমন নতুন উদ্যোক্তারা রপ্তানিতে উৎসাহিত হবেন, অন্যদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে।

দেশের দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল কমার্সসহ ই-কমার্স খাতকে টিকিয়ে রাখতে এবং এ খাতে গ্রাহকদের আগ্রহ ধরে রাখতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য খাতটিকে সম্পূর্ণ ভ্যাটমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন সৈয়দ আলমাস কবীর। তিনি বলেন, ডিজিটাল কমার্স খাত কেবল কেনাকাটা সহজ করে না, এটি লাখ লাখ তরুণ ও নারীর কর্মসংস্থান তৈরি করছে। তাই এই উদীয়মান খাতকে গতিশীল রাখতে এবং গ্রাহকদের ই-কমার্সে অভ্যস্ত করে তুলতে আগামী পাঁচ বছর কর ও ভ্যাটের বিশেষ ছাড় সুবিধা বজায় রাখতে হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের সফটওয়্যার রপ্তানি বাড়াতে কর নীতিমালা পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য ট্যাক্স হলিডে বা কর অবকাশসুবিধা দেওয়া হয়। এ সুবিধা প্রতিবছর নবায়ন না করে একবারে টানা পাঁচ বছরের জন্য ঘোষণা করা উচিত। কারণ, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে আসেন, তখন তাঁরা দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা দেখতে চান। প্রতিবছর করনীতি পরিবর্তন হলে বা কর অবকাশ নবায়নের অনিশ্চয়তা থাকলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগে আস্থা পায় না।