যশোর আইটি পার্ক হোটেল বন্ধ: বিশেষ সহকারীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল খান প্রপার্টিজ

যশোর আইটি পার্ক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টছবি: প্রথম আলো

যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে অবস্থিত ‘আইটি পার্ক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ বন্ধ ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য সামনে এসেছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে এর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান খান প্রপার্টিজ গ্রুপ। গত ৩০ জানুয়ারি প্রথম আলো অনলাইনে ‘হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল যশোর আইটি পার্ক রিসোর্ট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘ওটা তো বন্ধ হয়নি। আমরা এক্সিস্টিং যে টেক সিটি নামে সাপ্লায়ার আছে, ওই সাপ্লায়ারকে রিপ্লেস করার উদ্যোগ নিয়েছি। কারণ, তাদের ২৬ লাখ টাকা ইউটিলিটি বিলসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকা বকেয়া আছে। এর বাইরে তারা প্রায় পাঁচ কোটি টাকার কাছাকাছি মেনটেন্যান্স করে না। এ অবস্থায় রেখে গেছে। অর্থাৎ কথা ছিল যে বিল্ডিং ভবনগুলোর রুমগুলো তারা মেনটেন্যান্স করবে। মেনটেইন না করতে করতে বিল্ডিংটার একেবারে জরাজীর্ণ দশা। তো তারা বিশাল ক্ষতি করেছে ওই জায়গার, প্লাস যেহেতু সাবেক সরকারের, তাদের সঙ্গে আমাদের যে ইনভেস্টমেন্ট কমিউনিটি, ওখানে যে যশোর হাইটেক পার্কে বিজনেস এন্টারপ্রেনিউর আছে তারা কমফর্টেবল নয়। সবকিছু মিলে এটার সাপ্লায়ার আমরা চেঞ্জ করব আরকি।’

খান প্রপার্টিজের ব্যাখ্যা

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিস্ময় ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন খান প্রপার্টিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুদুর খান। এক ই–মেইল বার্তায় তিনি প্রথম আলোকে জানান, ‘হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল যশোর আইটি পার্ক হোটেল অ্যান্ড রির্সোট’ শিরোনামে খবরটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খবরে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের বক্তব্যে বিস্মিত ও দুঃখ প্রকাশ করছি।’

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব মেইলের সংযুক্তিতে বিগত ছয় বছরে টেক সিটি ও খান প্রপার্টিজ গ্রুপের কার্যক্রমের তথ্যচিত্র পাঠিয়েছে। সেখানে মাসুদুর খান আরও উল্লেখ করেন, ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার ও টেকনোলজি পার্কের প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (পিএমসি) হিসেবে দায়িত্বে ছিল টেকসিটি। পার্কে এরই মধ্যে সিকিউরিটি কোম্পানি হিসেবে ‘মুগ্নি’ এবং মেনটেনেন্স ও সাবস্টেশনের দায়িত্বে ‘ইলেকট্রন’ নামে দুটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা খান প্রপার্টিজ গ্রুপ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টটি ২০২৩ সাল থেকে পরিচালনা করে আসছি। এ পর্যন্ত আমরা ৪ কোটি ৭৩ লাখ ৭৭২ টাকা রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় করেছি । ২০২৩ সাল থেকে এটি আন্তর্জাতিক মানের হসপিটালিটি সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। এখানে প্রায় ১০০ জনের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি হাইটেক পার্কের এক মৌখিক নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে করে আমাদের ৭০ জন কর্মচারী সরাসরি বেকার হয়ে পড়েছে।’

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা কোম্পানির (টেকসিটি) রেখে যাওয়া জরাজীর্ণ দশা এবং বিপুল বকেয়া কাটিয়ে খান প্রপার্টিজ গ্রুপ হোটেলটিকে একটি লাভজনক ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করেছে। খান ওপিসি কর্তৃক প্রকাশিত গত তিন বছরের (২০২৩-২৫) তথ্যচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপনা কোম্পানি টেকসিটির (২০২০-২২) তুলনায় বর্তমান সময়ে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে।

* কর্মসংস্থান: টেকসিটির সময়ে যেখানে মাত্র ৫ জন কর্মী ছিল, খান ওপিসি তা বাড়িয়ে ৭০ জনে উন্নীত করেছে, যার ৯০ শতাংশই স্থানীয় জনবল।

* রাজস্ব আয়: টেকসিটির তিন বছরে মোট সেলস ছিল মাত্র ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। সেখানে খান ওপিসির অধীন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৮৮ লাখ ৪৭ হাজার ১৮৯ টাকায়।

* সরকারি কোষাগারে জমা: আগের ব্যবস্থাপনায় মূসক প্রদানের কোনো রেকর্ড না থাকলেও, খান ওপিসি গত তিন বছরে ৬৯ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩৩ টাকা ভ্যাট প্রদান করেছে। এ ছাড়া বিএইচটিপিএকে রেভিনিউ শেয়ারিং বাবদ দিয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি।

খান প্রপার্টিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুদুর খান জানিয়েছেন, টেকসিটি যখন দায়িত্ব ছাড়ে, তখন ভবনটি প্রায় পরিত্যক্ত এবং বসবাসের অযোগ্য অবস্থায় ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ভবনটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য ৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছি। অথচ টেকসিটির আমলে কোনো সংস্কার কাজই করা হয়নি। খান ওপিসি কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে যে যথাযথ তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে এবং বাস্তবমুখী উন্নয়নের চিত্র বিবেচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে, যাতে দেশের আইটি খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদটি পুনরায় সচল হতে পারে।’