মেটাভার্সের উদ্ভাবক নিল স্টিফেনসন মূলত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির লেখক। ১৯৯২ সালে স্টিফেনসনের লেখা উপন্যাস ‘স্নো ক্রাশ’–এ ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। তাঁর এ উপন্যাসে এমন একটি স্থানের কথা বলা হয় যেখানে নিজেকে ডিজিটাল দুনিয়ায় দেখা যায়। তিনি এ দুনিয়ার নামও দেন। এরপর তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর মেটাভার্স দুনিয়া কম্পিউটিং জগতে দারুণ জনপ্রিয় হয়। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের দুনিয়া তৈরিতে বিনিয়োগ শুরু করে।

মেটার অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের রিয়েলিটি ল্যাব মেটাভার্সের দুনিয়া তৈরিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে। ফেসবুক তাদের মূল প্রতিষ্ঠানের নাম বদলে রাখে মেটা। মেটাভার্স তৈরির কৌশল নিয়ে ফেসবুকের মতোই বিনিয়োগ শুরু করে মাইক্রোসফট, অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠান।

এত দিন নিজের লেখা মেটাভার্স দুনিয়া তৈরিতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাড়াবাড়ি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলেও স্টিফেনসন এখন নিজেই এ ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। তাঁর কাল্পনিক দুনিয়াকে বাস্তব জগতে রূপ দিতে নিতে যাচ্ছেন ‘লামিনাল’ নামের একটি উদ্যোগ। এ জন্য বিটকয়েন ফাউন্ডেশনের প্রধান পিটার ভ্যাসেনেসকে সঙ্গে নিচ্ছেন তিনি। পিটার ‘ক্রিপটোকারেন্সি’ বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা জগতে বেশ পরিচিত নাম। পিটার ও স্টিফেনসন মিলে গড়ে তুলেছেন লামিনাল নামের একটি কোম্পানি। তাঁরা এ কোম্পানির অধীন এমন একটি প্রযুক্তি কাঠামো দাঁড় করাতে যাচ্ছেন, যার আওতায় উন্মুক্ত মেটাভার্স তৈরি করা যাবে।

লামিনালের কৌশলগত পরামর্শক ও সাবেক ম্যাজিক লিপের প্রধান নির্বাহী রনি অ্যাবোভিজ বলেন, ‘মেটাভার্সকে উন্মুক্ত, বিকেন্দ্রীকরণ ও সৃজনশীল করতে কাজ শুরু করেছেন নিল স্টিফেনসন।’

পিটার ভ্যাসেনেস বলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন নিল স্টিফেনসন হয়তো তাঁর ব্র্যান্ডকে কোনো মেটাভার্স কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। কিন্তু আদতে তিনি তা করছেন না। তাঁদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। তাঁরা একে উন্মুক্ত রাখতেই কাজ করবেন।
সূত্র: ওয়্যারড

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন