পুরোনো প্রযুক্তিপণ্য মানুষ কী করে
আপনার শেষ ব্যবহৃত স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা স্মার্টওয়াচটির কথা একটু ভাবুন তো। সেটি কি এখন কোনো আবর্জনার ভাগাড়ে আছে, নাকি কোনো নতুন ব্যবহারকারীর হাতে শোভা পাচ্ছে? উত্তরটা সম্ভবত না। সেটি হয়তো আপনার ঘরের কোনো ড্রয়ার বা আলমারির কোণে ধুলা জমিয়ে পড়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে চার হাজার মার্কিন ভোক্তার ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, কোনো প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহার শেষ হয়ে যাওয়ার পর ৩৯ শতাংশ মানুষ সেটিকে নিয়ে কিছুই করেন না; স্রেফ ড্রয়ারে রেখে দেন। পুরো বিশ্বেই এমন চিত্র আশা করা হচ্ছে।
সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, পরিবেশের জন্য উপকারী দুটি মাধ্যম পুরোনো প্রযুক্তিপণ্যের রিসাইক্লিং এবং পুনর্বিক্রয়ের হার অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রতি ১০টি যন্ত্রের মধ্যে মাত্র ১টি রিসাইকেল বা বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া প্রায় ৯ শতাংশ মানুষ পুরোনো গ্যাজেট সরাসরি ময়লার আবর্জনায় ফেলে দেন। টেকসই উন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বহুমাত্রিক গবেষণা দল মানুষের এই অদ্ভুত আচরণের পেছনের মনস্তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। পরিসংখ্যানগত মডেল ব্যবহার করে তাঁরা বের করেছেন, মানুষ মুখে যা বলে, বাস্তবে তার প্রতিফলন কতটা ভিন্ন।
পুরোনো প্রযুক্তিপণ্য ড্রয়ারে আটকে থাকার পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা মনে করেন ডিভাইস রিসাইকেল বা বিক্রি করলে তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা ফাঁস হয়ে যেতে পারে, তাঁদের ক্ষেত্রে ডিভাইসটি ড্রয়ারে জমিয়ে রাখার প্রবণতা যথাক্রমে ১৪ শতাংশ ও ৯ শতাংশ বেড়ে যায়। আবার অনেকেই জানেন না যে পুরোনো ডিভাইস কোথায় বা কীভাবে রিসাইকেল করতে হয়। এই তথ্য না জানার কারণে ১০ শতাংশ মানুষ গ্যাজেট হাতছাড়া করতে চান না। আবার অনেকে পুরোনো ফোনটিকে স্রেফ ডেটা ব্যাকআপ হিসেবে রেখে দেওয়াকেই নিরাপদ মনে করেন।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, মানুষ যখন মুখে বলেন যে তিনি তাঁর পুরোনো যন্ত্রটি রিসাইকেল করবেন, বাস্তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্তে ডেটা ফাঁসের ভয়টি তাঁর মাথায় ভর করে। ফলে অবচেতনভাবেই তিনি ডিভাইসটি আর হাতছাড়া না করে ড্রয়ারে রেখে দেন। অনেকেই মনে করেন, ফোনটি ড্রয়ারে রেখে দিলে তো কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আসলে দুই দিক থেকেই ক্ষতিকর। প্রথমত, একটি ডিভাইস বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকলে তার পুনর্বিক্রয় মূল্য হারিয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, ডিভাইসটি যত পুরোনো হতে থাকে, তার ভেতরের ডেটা সম্পূর্ণ মুছে ফেলা ততটাই কঠিন ও জটিল হয়ে পড়ে।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট