এমডব্লিউসি ২০২৬: স্মার্টফোন প্রযুক্তির যত চমক

৬জি প্রযুক্তির আলাপ শুরু হয়েছে এমডব্লিউসি–২০২৬–এ

স্পেনের বার্সেলোনায় চলমান মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (এমডব্লিউসি) ২০২৬–এ প্রযুক্তিপণ্য উন্মোচনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। ৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই আন্তর্জাতিক আয়োজন। এতে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, অডিও যন্ত্রসহ বিভিন্ন ধারণাগত (কনসেপ্ট) পণ্য প্রদর্শন করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। এরই মধ্যে নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী ধারণার কারণে স্মার্টফোন প্রযুক্তির কয়েকটি পণ্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এবারের আসরে মূল চমক হয়ে আসছে এমন কিছু উদ্ভাবন, যা সাধারণ স্মার্টফোনের ধারণাই বদলে দিতে পারে। এ আসরের আলোচিত স্মার্টফোন প্রযুক্তি পণ্যগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

মটোরোলার গ্রাফিন ওএস: ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা কি বাড়বে

মটোরোলা এবং গ্রাফিন ওএস ফাউন্ডেশনের অংশীদারত্ব এই আসরের অন্যতম বড় খবর। ২০২৭ সালের মধ্যে মটোরোলা তাদের ফোনে এই ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আসবে। এটি মূলত অ্যান্ড্রয়েডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে মটোরোলা তাদের মূল অ্যান্ড্রয়েড ওএস পুরোপুরি বাদ দিচ্ছে না। ব্যবহারকারীরা বাড়তি নিরাপত্তার বিকল্প হিসেবে গ্রাফিন ওএস পাবেন।

আগুন জ্বালাবে ওউকিটেল ফোন

ওউকিটেল তাদের নতুন রাফ অ্যান্ড টাফ ফোন ‘ডব্লিউপি ৬৩’ নিয়ে এসেছে। ফোনটিকে তারা বলছে ‘আউটডোর পাওয়ার বিস্ট’। এই ফোনে রয়েছে বিল্ট-ইন ইগনিটার বা লাইটার। এই লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালানো যাবে। ২০,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের বিশাল ব্যাটারির এই ফোন দিয়ে অন্য যন্ত্রও চার্জ দেওয়া সম্ভব।

কিউয়ার্টি কি–বোর্ডের ফোন

ইউনিহার্টজ উন্মোচন করেছে তাদের ‘টাইটান ২ এলিট’। ফোনটির ৪ দশমিক ৫ ইঞ্চি ওএলআইডি পর্দা এবং কোয়ার্টি কি–বোর্ড দেখে পুরোনো দিনের ব্ল্যাকবেরি ফোন আলোচনায় আসবে। এর কি–বোর্ডটি ট্র্যাকপ্যাড হিসেবেও কাজ করবে। যাঁরা টাচস্ক্রিনের যুগে বোতামের অভাব বোধ করেন, তাঁদের জন্য এটি দারুণ একটি বিকল্প হতে পারে।

টি-মোবাইলের এআই কল অ্যাসিস্ট্যান্ট

কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার দিন হয়তো শেষ হতে চলেছে। টি-মোবাইল নিয়ে এসেছে ‘ম্যাজেন্টা এআই কল অ্যাসিস্ট্যান্ট’। এই এআই ব্যবহারকারীর হয়ে কথা বলবে, কল সামারি করবে, এমনকি ব্যবহারকারীর পক্ষ থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং বা ফর্ম ফিলআপও করে দেবে। আপাতত জার্মানিতে চালু হলেও দ্রুতই এটি বিশ্ববাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

লেনেভোর ভাঁজযোগ্য গেম খেলার যন্ত্র
ছবি: জেডডিনেট

লেনোভোর ফোল্ডেবল গেমিং হ্যান্ডহেল্ড

লেনোভো তাদের নতুন কনসেপ্ট পণ্য ‘লিজিয়ন গো ফোল্ড’ প্রদর্শন করেছে। এর পর্দা ভাঁজ খুলে ৭ দশমিক ৭ ইঞ্চি থেকে ১১ দশমিক ৬ ইঞ্চিতে বড় করা যায়। এটি মূলত একটি গেমিং ট্যাবলেটের মতো ব্যবহার করা যাবে। এতে রয়েছে ইন্টেল কোর আল্ট্রা ৭ প্রসেসর এবং ৩২ জিবি র‍্যাম। যদিও এটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে, তবে গেমিং দুনিয়ায় এটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

সিক্স–জি প্রযুক্তি কত দূর

ফাইভ–জির রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে গেছে সিক্স–জির আলাপ। এরিকসন ও এনভিডিয়া সিক্স-জি নেটওয়ার্কের প্রাথমিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের অলিম্পিকে এর প্রদর্শনী হতে পারে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হবে।

বোতামসহ স্মার্টফোন
ছবি: জেডডিনেট

বোতামের স্মার্টফোন

পুরোনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে বাজারে আসছে ‘ক্লিকস’ কোম্পানির নতুন অ্যান্ড্রয়েড ফোন ‘কমিউনিকেটর’। এতে ব্ল্যাকবেরির মতো কি–বোর্ড এবং নোটিফিকেশনের জন্য কাস্টমাইজড এলইডি লাইট রয়েছে। ৩৯৯ ডলার মূল্যের এই ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৬ সংস্করণে চলবে।

টেকনোর মডুলার ফোন

চীনা কোম্পানি টেকনো ৪ দশমিক ৯ মিলিমিটারের একটি পাতলা মডুলার ফোন প্রদর্শন করেছে। এর বিশেষত্ব হলো, ব্যবহারকারী প্রয়োজন অনুযায়ী ফোনের সঙ্গে আলাদা ক্যামেরা লেন্স, ব্যাটারি প্যাক বা অন্যান্য মডিউল ক্লিপের মতো আটকে ব্যবহার করতে পারবেন। এটি অ্যাপলের ‘আইফোন এয়ার’ ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে।

এমডব্লিউসিতে বক্তৃতা করছেন বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কান তেরজিওগ্লু
ছবি: বাংলালিংক

এমডব্লিউসি ২০২৬–এ বাংলালিংক

মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (এমডব্লিউসি) ২০২৬–এ অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন সেবাদাতা বাংলালিংক। বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের দ্রুত অগ্রসরমাণ ডিজিটাল খাতের চিত্র তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ডিজিটাল রূপান্তরের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলালিংক। গতকাল মঙ্গলবার বাংলালিংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক নাসডাক–তালিকাভুক্ত বৈশ্বিক ডিজিটাল অপারেটর ভিওনের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক। ভিওন গ্রুপ বর্তমানে বিশ্বের পাঁচটি উদীয়মান বাজারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব বাজারের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫৩ কোটি।

এ আয়োজনে বাংলালিংক ও ভিওনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈশ্বিক প্রযুক্তি অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করছেন। বিশ্বব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং এআই–নির্ভর উদ্ভাবনী কাঠামো নিয়ে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইওহান বুসে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে।

সূত্র: জেডডিনেট