সিনেম্যাটিক মোবাইল ভিডিওগ্রাফির সুবিধাসহ রোবট ফোন আনল অনার
ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় ক্যামেরা বা স্মার্টফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থির রাখতে গিম্বল ব্যবহার করেন অনেকেই। তবে আকারে বড় গিম্বলের ওজন বেশি হওয়ায় স্বচ্ছন্দে ব্যবহার করা যায় না। তাই এবার গিম্বলযুক্ত ‘রোবট ফোন’ বাজারে এনেছে চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনার। পুরোপুরি মোটরচালিত গিম্বল যুক্ত থাকায় ফোনটি মোবাইল প্রোডাকশন স্টুডিও হিসেবেও কাজ করতে পারে। এর ফলে সহজেই সিনেম্যাটিক মোবাইল ভিডিওগ্রাফি করা যায়। ৫১২ গিগাবাইট ও ১ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটি ১২ ও ১৬ গিগাবাইট র্যামসহ দুটি সংস্করণে পাওয়া যাবে। সংস্করণভেদে ফোনটির দাম ধরা হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৯৩০ ডলার বা প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা (প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৩ টাকা ধরে)। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে অনার বাংলাদেশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রোবট ফোনটিতে ২০০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ডুয়াল ক্যামেরা সিস্টেম রয়েছে। ২০০ মেগাপিক্সেলের এজাইল গিম্বল মেইন ক্যামেরা, ২.৭ গুণ অপটিক্যাল জুমের ২০০ মেগাপিক্সেল পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা থাকায় পথচলার সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভালো মানের ছবি তোলার পাশাপাশি ভিডিও করা যায় ফোনটিতে।
দ্রুতগতির শট নেওয়ার জন্য ফোনটিতে রয়েছে থ্রি-অ্যাক্সিস মেকানিক্যাল গিম্বল ক্যামেরা মডিউল। মোটরচালিত এই গিম্বল যেকোনো পরিস্থিতিতে স্থির ভিডিও ধারণ করতে পারে। ফোনটির ক্যামেরা আর্মে টিল্ট লক, ফার্স্ট পারসন ভিউ এবং এআই স্পিনশটের মতো আধুনিক মোডও রয়েছে যা অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ ছাড়াই ব্যবহারকারীদের নিখুঁত সিনেম্যাটিক ভিডিও ধারণ করতে সাহায্য করে।
স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ প্রসেসরে চলা রোবট ফোনটি জটিল এআই প্রসেসিং, ইমেজিং এবং মাল্টিটাস্কিং করতে পারে। ৭ হাজার ৬০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের অনার সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি থাকায় একবার চার্জ দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা যায় ফোনটি। তারের মাধ্যমে ১২০ ওয়াট এবং তারছাড়া ৫০ ওয়াটের সুপারচার্জ সুবিধা থাকায় দ্রুত চার্জ করা যায় ফোনটি। ফলে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলেও চার্জ শেষ হওয়া নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।
রোবট ফোনটির বিষয়ে অনারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেমস লি বলেন, ‘ভালো ছবির সূচনাটা হয় উন্নত যন্ত্রাংশ দিয়ে, কিন্তু তা অসাধারণ মাত্রায় পৌঁছে দেয় অ্যালগরিদম। তবে প্রযুক্তি কেবল ভিত্তি মাত্র, ভালো ইমেজিংয়ের মূল বিষয় হলো এর নান্দনিকতা।’