মেন্ডেলেভিয়াম মৌলের খোঁজ পাওয়া গেছে যেভাবে

প্রতীকী ছবিপেক্সেলস

পর্যায় সারণির অন্যতম রহস্যময় ও বিরল মৌলের নাম মেন্ডেলেভিয়াম। ১০১ পারমাণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট এই কৃত্রিম মৌল বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। এটিই প্রথম মৌল, যা প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না এবং যা আবিষ্কারের সময় মাত্র ১৭টি পরমাণু তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল। আধুনিক রসায়ন ও পর্যায় সারণির জনক হিসেবে পরিচিত দিমিত্রি মেন্ডেলিভের নামানুসারে মৌলটির নামকরণ করা হয়েছে মেন্ডেলেভিয়াম।

১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নবিদ অ্যালবার্ট ঘিওর্সো, বার্নার্ড জি হার্ভে, গ্রেগরি আর চপিন, স্ট্যানলি জি থম্পসন ও গ্লেন টি সিবর্গ এক দুঃসাহসিক পরীক্ষা পরিচালনা করেন। তাঁরা একটি সাইক্লোট্রন যন্ত্রের সাহায্যে আইনস্টাইনিয়াম-২৫৩ (পারমাণবিক সংখ্যা ৯৯) মৌলটির প্রায় ১০০ কোটি পরমাণুকে হিলিয়াম আয়ন বা আলফা কণা দিয়ে আঘাত করেন। রাতভর চলা এই পরীক্ষায় গবেষক দলটি সফলভাবে মেন্ডেলেভিয়াম-২৫৬ আইসোটোপটি শনাক্ত করতে সক্ষম হন। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সেই পরীক্ষায় তাঁরা এই মৌলটির মাত্র ১৭টি পরমাণু তৈরি করতে পেরেছিলেন। বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে কয়েক মিলিয়ন মেন্ডেলেভিয়াম পরমাণু তৈরি করা সম্ভব হলেও সেই সময়ে মাত্র ১৭টি পরমাণু দিয়ে একটি নতুন মৌলকে শনাক্ত করা ছিল অভাবনীয় সাফল্য।

মেন্ডেলেভিয়াম হলো পর্যায় সারণির অ্যাক্টিনয়েড সিরিজের একটি তেজস্ক্রিয় ধাতু। এটি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং সাধারণ চোখে দেখা যায় না। এখন পর্যন্ত মাত্র অল্পসংখ্যক পরমাণু তৈরি হওয়ায় এর বাহ্যিক রূপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত মেন্ডেলেভিয়ামের ১৬টি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে স্থিতিশীল আইসোটোপ হলো মেন্ডেলেভিয়াম-২৫৮, যার অর্ধায়ু প্রায় ৫১.৫ দিন। প্রথম আবিষ্কৃত মেন্ডেলেভিয়াম-২৫৬ আইসোটোপের অর্ধায়ু ছিল মাত্র ৭৮ মিনিট।

তেজস্ক্রিয় ট্রেসার কৌশলের মাধ্যমে দেখা গেছে, মেন্ডেলেভিয়াম প্রধানত +৩ জারণ অবস্থা প্রদর্শন করে। তবে এর সামান্য স্থিতিশীল +২ জারণ অবস্থাও পরিলক্ষিত হয়েছে। মেন্ডেলেভিয়াম প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না। এটি তৈরি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল, তাই সাধারণ মানুষের জীবনে এর কোনো ব্যবহার নেই। এটি শুধু উন্নত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহৃত হয়। পর্যায় সারণির ভারী মৌলগুলোর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বোঝার জন্য মেন্ডেলেভিয়াম নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মৌলের কোনো জীবতাত্ত্বিক ভূমিকা নেই। এটি মানবদেহ বা পরিবেশের জন্য তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তবে সাধারণ পরিবেশে এর অস্তিত্ব না থাকায় সে আশঙ্কা নেই বললেই চলে।

সূত্র: ব্রিটানিকা