যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কি সত্যিই ইরানে বৃষ্টির মেঘ আসতে বাধা দিয়েছিল
ইরানে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক তুষারপাত ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে দেশটির মরুপ্রায় প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণের স্পন্দন। ইরানে আবহাওয়ার অভাবনীয় এই পরিবর্তনের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা ধরনের জল্পনা–কল্পনা। ইরানপন্থী বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের আবহাওয়ার এই পরিবর্তন কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। যুদ্ধে সফলভাবে আমেরিকার রাডার এবং ইসরায়েলের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্র ধ্বংস করে দেওয়ার ফলেই এমনটি ঘটেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে ইরানে পানিতে পূর্ণ নদী এবং তুষারে ঢাকা রাস্তা দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এত দিন কৃত্রিম প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরানের আকাশে বৃষ্টির মেঘ আসতে বাধা দিচ্ছিল বা মেঘের গতিপথ পরিবর্তন করে দিচ্ছিল। সম্প্রতি হওয়া যুদ্ধে, ইরান শত্রুদেশের সেই আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে।
গত ১০ বছর ধরে ইরান চরম খরার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। শুকিয়ে যাওয়া জলাধার আর ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়া হ্রদের তলদেশ দেশটির পানিসংকটের করুণ চিত্র তুলে ধরছিল। তবে সাম্প্রতিক এই ভারী বর্ষণে পানিশূন্য জলাধারগুলো যেমন পূর্ণ হয়েছে, তেমনি কৃষিজমিতেও ফিরেছে সজীবতা। আর তাই অনেকে দাবি করেছেন, ইসরায়েল এবং আমেরিকা উন্নত রাডার ও বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে ইরানের আবহাওয়াকে শুষ্ক রাখতে ইঞ্জিনিয়ারিং করছিল। তাদের মতে, যুদ্ধের সময় ইরান এই প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার পর থেকেই মেঘের স্বাভাবিক প্রবাহ ইরানে ফিরতে শুরু করেছে।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানে আবহাওয়ার বিশাল এই পরিবর্তনকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং জলবায়ু চক্রের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরানের অভ্যন্তরে এই মেঘ বা বৃষ্টি চুরির ষড়যন্ত্র তত্ত্বটি এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: জি নিউজ