যুক্তরাষ্ট্রে লিথিয়ামের বিশাল খনি আবিষ্কার

লিথিয়ামফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের ম্যাকডারমিট ক্যালডেরা অঞ্চলে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম লিথিয়ামের খনি আবিষ্কৃত হয়েছে। ভূতাত্ত্বিকদের ধারণা মতে, প্রাচীন এক আগ্নেয়গিরির মাধ্যমে সৃষ্ট স্থানটিতে দুই কোটি থেকে চার কোটি মেট্রিক টন লিথিয়াম জমা থাকতে পারে। এর বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন বা দেড় লাখ কোটি মার্কিন ডলার। এই আবিষ্কার একদিকে যেমন আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ব্যাটারি উৎপাদন শিল্পে বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা তৈরি করলেও স্থানীয় পরিবেশ, বন্য প্রাণী এবং আদিবাসী সংস্কৃতির ওপর প্রভাব নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ম্যাকডারমিট ক্যালডেরা অঞ্চলটি ওরেগন ও নেভাদা সীমান্তের কাছে অবস্থিত। ১ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে এক বিশাল আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এই বেসিন বা অববাহিকা তৈরি হয়েছিল। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এখানকার মৃত্তিকা স্তরে লিথিয়ামের ঘনত্ব অস্বাভাবিকভাবে বেশি। যদি এই খনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে লিথিয়াম উত্তোলন সফল হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের শীর্ষ লিথিয়াম সরবরাহকারী দেশগুলোর কাতারে চলে আসবে।

লিথিয়ামকে বলা হয় সাদা সোনা। এটি বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরির প্রধান কাঁচামাল। লিথিয়াম উত্তোলনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত পরিবেশ-সংবেদনশীল। হাইটেক মিনারেলস ইনকরপোরেটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠান মালহিউর কাউন্টিতে শত শত পরীক্ষামূলক কূপ খনন ও রাস্তা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। এরই মধ্যে ব্যুরো অব ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট জনসাধারণের মন্তব্যের জন্য খুব স্বল্প সময় দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন সিয়েরা ক্লাবের ওরেগন শাখা জানিয়েছে, তারা পরিবেশবান্ধব জ্বালানির সমর্থক হলেও ভঙ্গুর বাস্তুসংস্থান ধ্বংস করে খননকাজের বিরোধী। এই অঞ্চলে প্রংহর্ন অ্যান্টিলোপ ও সেজ-গ্রাউসের মতো বিপন্ন প্রজাতির আবাসস্থল রয়েছে। খনি প্রকল্পের কারণে সবাই হুমকিতে পড়তে পারে।

মালহিউর কাউন্টি ওরেগনের দরিদ্র এলাকা। ফলে এই প্রকল্প ঘিরে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখছেন অনেক বাসিন্দা। কাউন্টির অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিচালক গ্রেগ স্মিথ বলেন, ‘আমাদের খনন ওরেগন স্টাইলে করতে হবে। এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক গুরুত্বও অপরিসীম। বেশ কিছু আদিবাসী সম্প্রদায় এই ভূমিকে পবিত্র মনে করে। তাদের ধর্মীয় আচার ও ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রার জন্য এই মরু অঞ্চল অপরিহার্য। এর আগেও নেভাদায় লিথিয়াম প্রকল্পের কারণে পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় তীব্র লড়াই করেছেন স্থানীয় লোকজন। ওরেগনের এই প্রকল্পেও একই ধরনের সংঘাতের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: আর্থ