টেলিগ্রাফ উন্মোচন করেন স্যামুয়েল মোর্স
১৮৩৮ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে নিজের উদ্ভাবিত টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা প্রথম প্রদর্শন করেন স্যামুয়েল মোর্স। বৈদ্যুতিক স্পন্দনের মাধ্যমে তারের ওপর দিয়ে সংকেত পাঠানোর এই যন্ত্র দূরপাল্লার যোগাযোগব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল।
স্যামুয়েল ফিনলে ব্রিজ মোর্স ১৭৯১ সালের ২৭ এপ্রিল ম্যাসাচুসেটসের চার্লসটাউনে জন্মগ্রহণ করেন। ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় শিল্পকলার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বা ইলেকট্রিসিটির প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। স্নাতক শেষ করে তিনি চিত্রশিল্পী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৮৩২ সালে ইউরোপ থেকে জাহাজে করে বাড়ি ফেরার পথে তিনি নব-আবিষ্কৃত তড়িৎ চুম্বক সম্পর্কে জানতে পারেন। তখনই তাঁর মাথায় বৈদ্যুতিক টেলিগ্রাফের ধারণাটি আসে। যদিও তিনি জানতেন না যে অন্য অনেক বিজ্ঞানী ইতিমধ্যে এই ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
পরবর্তী কয়েক বছরে স্যামুয়েল মোর্স তাঁর টেলিগ্রাফের প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরির পেছনে ব্যয় করেন। এ কাজে তাঁকে সাহায্য করেন লিওনার্ড গেল ও আলফ্রেড ভেল নামক দুজন সহযোগী। ১৮৩৮ সালে মোর্স কোড ব্যবহার করে নিজের উদ্ভাবিত টেলিগ্রাফ প্রদর্শন করেন স্যামুয়েল মোর্স, যেখানে বিন্দু ও ড্যাশ ব্যবহারের মাধ্যমে বর্ণমালা ও সংখ্যা প্রকাশ করা হতো।
১৮৪৩ সালে মার্কিন কংগ্রেস একটি টেলিগ্রাফ লাইন নির্মাণের জন্য অর্থায়ন করতে রাজি হয়। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৮৪৪ সালের মে মাসে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে বাল্টিমোরে প্রথম আনুষ্ঠানিক টেলিগ্রাম পাঠানো হয়, যার বার্তা ছিল, ঈশ্বর কী সৃষ্টি করেছেন!
মোর্সের এই পেটেন্ট ব্যবহার করে পরবর্তী কয়েক বছরে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপন শুরু করে। ১৮৬১ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপন করা হয়। ১৮৬৬ সালে আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশ দিয়ে স্থায়ী লাইন স্থাপনের মাধ্যমে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ স্থাপিত হয়। ১৯২০ ও ১৯৩০ দশকে টেলিগ্রাফ–সেবা জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছায়।
টেলিগ্রাফে যেহেতু প্রতিটি শব্দের জন্য চার্জ কাটে, তাই টেলিগ্রামের ভাষা হতো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। এই ব্যবস্থায় পূর্ণচ্ছেদ বা পিরিয়ড ব্যবহারের জন্য টাকা দিতে হতো কিন্তু ইংরেজি স্টপ শব্দটি লেখা ছিল ফ্রি। তাই বাক্যের শেষে স্টপ লেখার প্রচলন শুরু হয়।
২০ শতকের শেষ ভাগে এসে কম খরচে ফোনকল, ফ্যাক্স এবং সবশেষে ই–মেইলের দাপটে টেলিগ্রাফ তার গুরুত্ব হারাতে থাকে। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন তাদের শেষ টেলিগ্রামটি প্রদান করে। স্যামুয়েল মোর্স ১৮৭২ সালের ২ এপ্রিল ৮০ বছর বয়সে নিউইয়র্ক সিটিতে মারা যান। তাঁর উদ্ভাবন আজকের আধুনিক ডিজিটাল যোগাযোগের ভিত্তি স্থাপন করে দিয়ে গেছে।
সূত্র: হিস্ট্রি ডটকম