ব্লেইজ প্যাসক্যালের জন্মদিন

আজ থেকে ঠিক ৪০০ বছর আগে ফ্রান্সে জন্ম নেন গণিতজ্ঞ ব্লেইজ প্যাসক্যাল। কম্পিউটার জগতে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান হলো গণনাযন্ত্রের উদ্ভাবন।

ব্লেইজ প্যাসক্যাল। ১৬৯১ সালে ফরাসি চিত্রকর ফ্রোঁসোয়া কিনেল–টু’র আঁকা তেলচিত্রউইকিপিডিয়া

১৯ জুন ১৬২৩
ব্লেইজ প্যাসক্যালের জন্মদিন
আজ থেকে ঠিক ৪০০ বছর আগে ফ্রান্সে জন্ম নেন গণিতজ্ঞ ব্লেইজ প্যাসক্যাল। ১৬৬২ সালের ১৯ আগস্ট মাত্র ৩৯ বছর বয়সে মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি বেশ কিছু যুগান্তকারী তত্ত্ব ও সূত্র দিয়ে গেছেন। জ্যামিতি, পদার্থবিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব ও অন্য বিষয়ে প্যাসক্যালের দেওয়া তত্ত্ব পরবর্তী সময়ে গবেষণা, উদ্ভাবন ও পাঠদানে উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে। কম্পিউটার জগতে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান হলো গণনাযন্ত্রের উদ্ভাবন। প্যাসক্যালের বাবা এচেন প্যাসক্যাল পেশায় একজন কর সংগ্রাহক ছিলেন। কর হিসাব–নিকাশের ঝক্কির কাজে বাবাকে সহায়তা করতেই এই যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন ব্লেইজ প্যাসক্যাল।

প্যারিসের আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস জাদুঘরে রক্ষিত একটি প্যাসক্যালাইন
উইকিপিডিয়া

প্যাসক্যাল’স ক্যালকুলেটর বা প্যাসক্যালাইন নামের এ যন্ত্র ১৬৪২ সালে তৈরি করেন ব্লেইজ প্যাসক্যাল। তখন তাঁর বয়স উনিশও পূর্ণ হয়নি। যান্ত্রিক এই ক্যালকুলেটর যোগ ও বিয়োগ করতে পারত। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চার শতক আগে প্যাসক্যাল তৈরি করেছিলেন এই ক্যালকুলেটর। তবুও পরবর্তী সময়ে কম্পিউটার প্রকৌশলের উন্নয়নে এটি অবদান রাখে।

অতিরিক্ত মূল্যের কারণে প্যাসক্যালের ক্যালকুলেটর খুব বেশি বাণিজ্যিক সফলতা পায়নি। সেই সময়ে প্যাসক্যালাইন খেলনার থেকে একটু কার্যকর ছিল এবং এটি ফ্রান্স ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে ধনী ব্যক্তিদের কাছে ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। উদ্ভাবনের পরবর্তী এক দশক ব্লেইজ প্যাসক্যাল তাঁর গণনাযন্ত্রের উন্নয়ন করে গেছেন। তাঁর নকশায় ৫০টি প্যাসক্যালাইন তৈরিও হয়েছে। প্যাসক্যাল নিজে ১০ বছরে ২০টি যন্ত্র তৈরি করেছিলেন। প্যাসক্যালের তৈরি করা আটটি প্যাসক্যালাইন এখনো টিকে আছে। এর মধ্যে চারটি প্যারিসের আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস জাদুঘরে এবং দুইটি জার্মানির দ্রিসনার যুইঙ্গার জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে।

ফার্মভিল গেমে নিজের এমন কৃষি খামার সাজানো যেত
স্ক্রিনশট

১৯ জুন ২০০৯
ফেসবুকে ফার্মভিল গেম প্রকাশিত
গেম নির্মাতা জিনগা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করে ‘ফার্মভিল’ গেম। খেতখামার গড়ে তোলা ফসল চাষ, জমিতে হাল দেওয়া, ট্রাক্টর কেনা, ফলের গাছ লাগানো, গবাদিপশু পালন করা, সেসবের বিপণন, বিকিকিনি করা যেত সিমুলেশন ঘরানার নান্দনিক এই গেমে। গেমে কৃষি ব্যবস্থাপনার নানা দিক ছিল। বিনিয়োগ করা, নিজের মতো করে খামার সাজানো—সবই করা যেত। একা ও অনলাইনে একাধিক খেলোয়াড় একসঙ্গে এই গেম খেলতে পারতেন।

ফার্মভিল খেলোয়াড়ের বানানো একটি খামার
স্ক্রিনশট

অ্যাডোবি ফ্ল্যাশ অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে ফেসবুক ও মাইক্রোসফটের এমএসএন গেমসে এটি খেলা যেত। ফার্মভিল বিনা মূল্যের গেম। তবে প্রয়োজনে বা বিশেষ কাজের জন্য বাড়তি ‘ফার্ম ক্যাশ’ সত্যিকারের অর্থ খরচ করে কেনা যেত। ফার্মভিলকে বলা হয় প্রথম দিককার অন্যতম প্রধান ‘ফ্রিমিয়াম’ গেমস (অনলাইনে এক ধরনের ব্যবসা মডেল, যেখানে প্রাথমিক সুবিধাগুলো বিনা মূল্যে পাওয়া যায়, বাড়তি সুবিধাগুলো কিনে নিতে হয়)।

ফার্মভিলের দৃশ্য
স্ক্রিনশট

প্রকাশের পরপরই ফার্মভিল ফেসবুকে সবচেয়ে জনপ্রিয় গেম হয়ে ওঠে। পরের দুই বছরের বেশি সময় ফেসবুক গেম হিসেবে ১ নম্বর জায়গাটি ধরে রাখে। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে যখন ফার্মভিল, ২০১০ সালের মার্চে ফার্মভিলের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার। প্রতিদিন ৩ কোটি ৪৫ লাখ ব্যবহারকারী খেলত এই গেম।

২০১১ সালের পর ফার্মভিলের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। ২০১২ সালের মে মাসে ৭ নম্বরে নেমে যায় এর অবস্থান। ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল ১১০তম স্থানে নেমে যায় ফার্মভিল। ফ্ল্যাশ গেম আর সমর্থন করবে না—ফেসবুকের এমন ঘোষণার পর ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর জিনগা ফার্মভিল গেম বন্ধ করে দেয়। ফার্মভিলের উত্তরসূরি ফার্মভিল-২ ও ফার্মভিল-৩ যথাক্রমে ২০১২ ও ২০২১ সালে প্রকাশিত হয়। এই দুই গেম এখন রয়েছে মোবাইল অ্যাপ আকারে।