হয়ে গেল সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে ভিএলএসআই প্রতিযোগিতা
সেমিকন্ডাক্টর খাতে সারা বিশ্বেই তরুণ পেশাজীবীদের কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়পর্যায়ের তরুণদের সেমিকন্ডাক্টর–সংশ্লিষ্ট দক্ষতা বাড়াতে আয়োজন করা হয়েছে ভিএলএসআই–নির্ভর হ্যাকাথন প্রতিযোগিতা ‘ভিএলএসআইথন ৩.০’। শিক্ষার্থীদের সেমিকন্ডাক্টর খাতের উপযোগী করে গড়ে তুলতে এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে সেমিকন্ডাক্টর নকশাকারক বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান উল্কাসেমি। এই চিপ ডিজাইন প্রতিযোগিতায় কয়েক ধাপে দেশের ৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাপনীতে ১০টি দল অংশ নেয়।
সমাপনীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দল ‘ডেভিয়েশন’ বিজয়ী হয়েছে। প্রথম রানার্সআপ হয়েছে আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভলটিক্স’ দল। দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডেনসিটি ডিমনস’ দল। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর উল্কাসেমি ঢাকা ডিজাইন সেন্টারে ভিএলএসআইথনের চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। উল্কাসেমির আয়োজনে, উল্কাসেমি ভিএলএসআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (ইউভিটিআই) সঙ্গে যৌথভাবে এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইইউবি) সহায়তায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এবারের আয়োজন।
সেরা দশ দল থেকে সমস্যার সমাধান উপস্থাপনা পর্বের শেষে সেরাদের সেরা তিনটি দল নির্বাচিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. নজরুল ইসলাম, এআইইউবির উপাচার্য সাইফুল ইসলাম, উল্কাসেমির সিইও ও প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান।
সাইফুল ইসলাম বলেন, একাডেমিয়া ও শিল্পের একসঙ্গে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও শিক্ষার্থী সেমিকন্ডাক্টর খাতে পেশা গড়তে আগ্রহী হবে। মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান বলেছেন, ভিএলএসআইথন একাডেমিক পড়াশোনা আর শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সেতু তৈরি করছে। দেশে ভিএলএসআইথনে অংশগ্রহণ করা অনেক প্রতিযোগীই এখন উল্কাসেমিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে সফলভাবে কর্মরত।
প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দল ডেভিয়েশনের সদস্য মো. রাকিব হাসনাত ও মো. শাহরিয়ার খান। মো. রাকিব হাসনাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নিজেদের আগ্রহ থেকে এখানে অংশ নিয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ভিএলএসআই নিয়ে কোর্স না থাকলেও এখানে আসার জন্য আমরা নিজেরা আগ্রহ থেকে শিখেছি। আমরা আরও কাজ শিখতে চাই। আমরা এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বড় কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী।’
প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার্সআপ ভোলটেক্সের সদস্য মেহেদী করিম ও এসএম মঈন হক। মেহেদী করিম বলেন, ‘সামনে সেমিকন্ডাক্টর খাতে কাজের সুযোগ অনেক। সেই সুযোগে এমন প্রতিযোগিতা আমাদের দক্ষতা বাড়াতে ও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ জয় করতে সহায়তা করবে। আমরা ক্লাস বা ল্যাবে যা শিখি, এই প্রতিযোগিতায় তা বাস্তবে ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছি। দেশের সেমিকন্ডাক্টর খাত আরও বড় হবে, সেই লক্ষ্যে আমরা এই খাতে পেশা গড়তে আগ্রহী।’
প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রানার্সআপ ডেনসিটি ডেমনস দলের সদস্য সাঈদ আহমেদ মৃধা ও মো. রাশেদুল ইসলাম পড়ছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমাদের ইইই বিষয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি দক্ষতা ও জানাশোনার সুযোগ বাড়ে। আমরা ভবিষ্যতে সেমিকন্ডাক্টর খাত–সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতামূলক কাজ ও গবেষণার সুযোগ নিতে চাই। সামনে প্রসেসর ও চিপনির্ভর কাজ আরও বাড়বে, সেখানে এমন ভিএলএসআই প্রতিযোগিতা আমাদের দক্ষতা বাড়াবে।’
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে এমন সব প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। শিক্ষার্থীদের সেমিকন্ডাক্টরশিল্পের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই আগ্রহী করে তুলতে এ আয়োজন চলবে।