২৭ বছরে বিসিএস কম্পিউটার সিটি, বাজারজুড়ে উৎসবের আমেজ
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনে দেশের প্রথম বিশেষায়িত কম্পিউটার বাজার হিসেবে যাত্রা শুরু করা বিসিএস কম্পিউটার সিটি আজ ২৭ বছর পূর্ণ করেছে। ১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করা বিসিএস কম্পিউটার সিটি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিপণ্যের বাজার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিসিএস কম্পিউটার সিটিতে ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিপণ্য বিক্রেতা, ক্রেতা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের নিয়ে কেক কাটার পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি ও ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির বর্তমান সহসভাপতি মো. ওয়াহিদুল হাসানসহ বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক ও বর্তমান কমিটির সদস্যরা।
যেভাবে শুরু
নব্বইয়ের দশকে দেশে কম্পিউটার ব্যবহারের প্রসার ঘটতে শুরু করে। তখন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) প্রতিবছর ‘বিসিএস কম্পিউটার শো’ নামে কম্পিউটার মেলার আয়োজন করত। সময়ের সঙ্গে এসব মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা ও পরিসর বাড়তে থাকে।
১৯৯৮ সালে আগারগাঁওয়ে সদ্য নির্মিত আইডিবি ভবনের পাশে একটি প্রশস্ত ভবনে কম্পিউটার মেলার আয়োজন করে বিসিএস। ওই মেলায় ব্যাপক সাড়া পাওয়ার পর সেখানে স্থায়ী একটি বিশেষায়িত কম্পিউটার বাজার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিসিএস কম্পিউটার শোয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে বিসিএস কম্পিউটার সিটি। আইডিবির কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া ভবনে শুরু হওয়া এই বাজারের আয়তন ছিল প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার বর্গফুট। শুরুতে এখানে প্রযুক্তিপণ্য বিক্রির জন্য ১১০টি দোকান ছিল। বর্তমানে দোকানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৪টিতে।
উদ্দেশ্য ছিল এক জায়গায় প্রযুক্তিপণ্য বিক্রি
বিসিএস কম্পিউটার সিটি প্রতিষ্ঠার অন্যতম লক্ষ্য ছিল কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিপণ্যকে একটি নির্দিষ্ট ও বিশেষায়িত বাজারের আওতায় আনা। এতে ক্রেতারা একই জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, আনুষঙ্গিক পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা সম্পর্কে জানতে ও কেনাকাটা করতে পারেন। প্রতিষ্ঠার সময় দেশে কম্পিউটার অনেকের কাছেই ছিল নতুন প্রযুক্তি। ধীরে ধীরে কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে এর যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক পণ্যের চাহিদাও বাড়তে থাকে। সেই চাহিদা পূরণে বিসিএস কম্পিউটার সিটি গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
২৭ বছরে এসেছে নানা পরিবর্তন
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের তথ্যপ্রযুক্তিপণ্যের বাজারও বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), গেমিং, ক্লাউড প্রযুক্তি, উচ্চ ক্ষমতার কম্পিউটিং ও স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে নতুন ধরনের প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদাও তৈরি হচ্ছে। ২৭ বছর ধরেই ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি করছে বিসিএস কম্পিউটার সিটি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সহসভাপতি ও হাই–টেক প্রফেশনালসের স্বত্বাধিকারী মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘আগে ক্রেতারা পণ্যের মানকে প্রাধান্য দিতেন, কিন্তু বর্তমানে দামকে প্রাধান্য দেন। এই মার্কেট প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ছিল ক্রেতাদের এক জায়গায় কম্পিউটারের সব মানসম্পন্ন প্রযুক্তিপণ্য সহজলভ্য করা, যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। আমি চাই, বর্তমানে কম্পিউটার প্রযুক্তিপণ্যের পাশাপাশি এআইনির্ভর সব প্রযুক্তি এই মার্কেটে পাওয়া যাক। তাহলেই আমরা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারব।’
বিসিএস কম্পিউটার সিটি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহেদ আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের মার্কেটে কম্পিউটার পণ্যের পাশাপাশি এআইনির্ভর সব প্রযুক্তি নিয়ে আসার চেষ্টা করছি, যাতে ক্রেতা সব প্রযুক্তিপণ্য এক জায়গায় পান। তা ছাড়া বিসিএস কম্পিউটার সিটির সব দোকানকে ই–কমার্সের আওতায় আনার চেষ্টা করছি, যাতে ক্রেতারা অনলাইনেই সব পণ্য কিনতে পারেন।’
সিটি আইটি অ্যানিভার্সারি ফেস্টের আহ্বায়ক মশিউর রহমান বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে ব্যবসা–বাণিজ্যের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে, প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু আমাদের মূল লক্ষ্য একই রয়েছে, ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করা এবং সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদান করা।’