সাক্ষাৎকার

ইনটেল আমার প্রথম কর্মক্ষেত্র: মোহাম্মদ মাশরুর হোসেইন

বিশ্বের সবচেয়ে প্রসেসর চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনটেলে মেট্রোলজি প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশের মোহাম্মদ মাশরুর হোসেইন। ইনটেলের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির চিপগুলো বাজারে আসার আগেই সেগুলোর মান নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বাংলাদেশে স্নাতক সম্পন্ন করা এই মেধাবী তরুণ। বর্তমানে ইনটেলে কাজ করার পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব টেনেসিতে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং, উপকরণ প্রকৌশল এবং তাপ ব্যবস্থাপনা প্রদ্ধতির ওপর পিএইচডি করছেন তিনি। ইনটেলে ক্যারিয়ার গড়ার পেছনের কাহিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইশতিয়াক মাহমুদ।

প্রথম আলো:

 কোন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন?

 মোহাম্মদ মাশরুর হোসেইন: আমি বাংলাদেশে লালমনিরহাট সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছি। এরপর ভর্তি হই গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) যন্ত্রকৌশল বিভাগে। ২০২১ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার দুই মাস পরেই উচ্চশিক্ষার জন্য চলে আসি যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্রকৌশলে স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পরপরই ইনটেলে মেট্রোলজি প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করি। ইনটেলই আমার প্রথম কর্মক্ষেত্র। বর্তমানে আমি চাকরির পাশাপাশি টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়, নক্সভিলে পিএইচডি করছি।

প্রথম আলো:

  মেট্রোলজি প্রকৌশল বিষয়টি কী?

 মোহাম্মদ মাশরুর হোসেইন: মেট্রোলজি মূলত মান নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, যা পণ্যের মান ও নির্ভরযোগ্যতা (কোয়ালিটি অ্যান্ড রিল্যায়েবিলিটি) নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হয়। আমরা মূলত ইনটেলের চিপ পরীক্ষা করে সেখানে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা খুঁজে বের করি। এরপর শনাক্ত করা ত্রুটির ধরন এবং সমাধানের কৌশল তুলে ধরি। সে অনুযায়ী আবার চিপ তৈরি করা হয়।

মোহাম্মদ মাশরুর হোসেইন
ছবি: সংগৃহীত
প্রথম আলো:

  ইনটেলে কীভাবে যোগ দিলেন?

 মোহাম্মদ মাশরুর হোসেইন: ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্রকৌশলে স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর ২০২৩ সালে আমি ইনটেলে মেট্রোলজি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করি। এ ক্ষেত্রে আমার গবেষণা অভিজ্ঞতা, বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা এবং উৎপাদন পর্যায়ে জটিল প্রকৌশল সমস্যা সমাধানের বিষয়গুলো দেখা হয়েছে। ইনটেলে চাকরি পাওয়ার পর আমি ওয়েফার-লেভেল প্যাকেজিং, প্রক্রিয়া অপ্টিমাইজেশনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছি।

প্রথম আলো:

  ইনটেলে আপনার মূল দায়িত্ব কী?

 মোহাম্মদ মাশরুর হোসেইন: মেট্রোলজি প্রকৌশলীদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে ওয়েফার-লেভেল প্যাকেজিং মেট্রোলজি, ত্রুটির বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ, উন্নত প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি। আমার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে একটি হলো ত্রুটির মূল কারণ বিশ্লেষণ এবং ডেটাচালিত প্রক্রিয়া অপ্টিমাইজেশন করা। অর্থাৎ চিপ পরীক্ষার পর ত্রুটি সমাধানে উৎপাদন পর্যায়ের করণীয় নির্ধারণ করা। এভাবেই মূলত চিপের মান উন্নয়ন করা হয়। আমি মূলত ইন্টিগ্রেশন প্রকৌশলী, প্রক্রিয়া উন্নয়ন প্রকৌশলী এবং উৎপাদন অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত দলকে সহযোগিতা করে থাকি।

প্রথম আলো:

  ইনটেলে চাকরি পেতে আগ্রহীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

 মোহাম্মদ মাশরুর হোসেইন: বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো মূলত দ্রুত চিন্তা করতে ও মানিয়ে নিতে সক্ষম ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। পাশাপাশি জটিল পরিবেশে দলগতভাবে কাজের দক্ষতাকেও প্রাধান্য দিয়ে থাকে তারা। আর তাই ইনটেলে চাকরি পেতে আগ্রহী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আমি গণিত, পদার্থবিজ্ঞান এবং প্রোগ্রামিংয়ে শক্তিশালী মৌলিক বিষয়গুলোয় দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেব। বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা এবং ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে হবে তাদের।

মোহাম্মদ মাশরুর হোসেইন ইনটেলে চিপের মান নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন
ছবি: সংগৃহীত
প্রথম আলো:

  আপনার পারিবার সম্পর্কে বলুন।

 মোহাম্মদ মাশরুর হোসেইন: আমার বাবার নাম মিরন হোসেইন। তিনি মেরিন প্রকৌশলী। মা মারুফা বেগম একজন গৃহিণী। আমার ছোট ভাই মেহরান হোসেইন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়ালেখা করছেন।

প্রথম আলো:

  আপনার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কী?

 মোহাম্মদ মাশরুর হোসেইন: আমার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হলো সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং, উন্নত উপকরণ এবং তাপ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা করার মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উদ্ভাবনে অবদান রাখা।

প্রথম আলো:

 বাংলাদেশে একাধিক প্রতিষ্ঠান সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে কাজ করছে। বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ভবিষ্যৎ কেমন?

মোহাম্মদ মাশরুর হোসেইন: আমি ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসায় বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প সম্পর্কে সঠিক ধারণা নাই। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য না করাই ভালো।