ওপেনএআইয়ের তৈরি জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা মডেল কি মানুষের মতো বুদ্ধিমান

কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআইয়ের যুগ শুরু হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াংফাইল ছবি: রয়টার্স

গত এপ্রিলে কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্সের (এজিআই) মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হতে আর খুব বেশি সময় লাগবে না বলে জানিয়েছিলেন এজিআই প্রযুক্তির জনক হিসেবে পরিচিত বেন গয়ের্টজেল। তিনি জানিয়েছিলেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই মানুষের বুদ্ধিমত্তার সমমানের এআই প্রযুক্তির দেখা যেতে পারে। তবে কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআইয়ের যুগ শুরু হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং। তার মতে, ওপেনএআইয়ের নতুন এআই মডেল ‘জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা’ মানুষের মতো চিন্তা ও যুক্তি প্রয়োগের সক্ষমতায় নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে হুয়াংয়ের এই দাবির সঙ্গে একমত নন এআইবিষয়ক অনেক গবেষক ও সমালোচক।

চ্যাটজিপিটি চালুর মাত্র চার বছরের মধ্যে জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা তৈরি করায় ওপেনএআইকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছেন হুয়াং। সেখানে তিনি সরাসরি লিখেছেন, ‘এজিআই এসে গেছে।’ তার দাবি, জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রার প্রশিক্ষণে এক লাখের বেশি এনভিডিয়া গ্রেস ব্ল্যাকওয়েল এনভিলিংক৭২ জিপিইউ ব্যবহার করা হয়েছে। শিগগিরই আরও চার লাখের বেশি জিপিইউ যুক্তের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জেনসেন হুয়াংয়ের দাবির সঙ্গে অনেকটাই একমত ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান। হুয়াংয়ের পোস্টের জবাবে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা এখন এজিআইয়ের যুগে প্রবেশ করছি।’ তবে ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের সহযোগিতা ছাড়া এই অগ্রগতি সম্ভব হতো না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ওপেনএআইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এনভিডিয়া। ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের অধিকাংশ এআই প্রশিক্ষণ ও এআই ব্যবহারের অবকাঠামো এখনো এনভিডিয়ার তৈরি জিপিইউয়ের ওপর নির্ভরশীল।

আরও পড়ুন

এর আগে ব্রকম্যান বলেছিলেন, জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রার মাধ্যমে এজিআইয়ের যুগ শুরু হয়েছে বলে মনে করা অযৌক্তিক নয়। তার মতে, কয়েক বছর পর মানুষ যখন পেছনে ফিরে তাকাবে এবং জানতে চাইবে এজিআই আসলে কখন তৈরি হয়েছিল, তখন হয়তো এই সময়টিকেই সেই সূচনাকাল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এমনকি জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রাকেই সেই মডেল হিসেবে চিহ্নিত করা হতে পারে।

জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রাকে এজিআই হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে অবশ্য ভিন্নমত রয়েছে অনেকের। এআই গবেষক ও সমালোচক গ্যারি মার্কাস জেনসেন হুয়াংয়ের মন্তব্যের সমালোচনা করে এক্সে জানা, কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা বা প্রমাণ ছাড়াই এজিআই অর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এজিআইয়ের প্রচলিত সংজ্ঞা বিবেচনা করলে জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এজিআই বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, সেটিই যদি স্পষ্ট না থাকে, তাহলে এজিআই অর্জনের ঘোষণা দেওয়ার মাধ্যমে বিভ্রান্তি বাড়ে।

আরও পড়ুন

এজিআইয়ের পূর্ণরূপ কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা। এমন এআই ব্যবস্থাকে এজিআই বলা হয়, যা নির্দিষ্ট কোনো কাজ ছাড়াও বিস্তৃত পরিসরের কাজে মানুষের মতো চিন্তা, যুক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। মানুষের বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার পাশাপাশি এ ধরনের এআই একপর্যায়ে মানুষের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এজিআই তৈরির লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিকসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এজিআইয়ের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নিয়ে এখনো প্রযুক্তি দুনিয়ায় ঐকমত্য তৈরি হয়নি।

ওপেনএআইয়ের দাবি, জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা প্রতিষ্ঠানটির তৈরি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেল। কম্পিউটার ব্যবহার, সফটওয়্যার প্রকৌশল, সাইবার নিরাপত্তা ও বিজ্ঞান গবেষণাসহ বিভিন্ন পেশাগত কাজে মডেলটি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন মান যাচাই পরীক্ষাতেও জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা প্রতিদ্বন্দ্বী এআই মডেলগুলোর তুলনায় ভালো ফল করেছে বলে দাবি করেছে ওপেনএআই। এসব পরীক্ষায় অ্যানথ্রপিকের মিথস ৫.১ এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী মডেলকেও পেছনে ফেলেছে অ্যাস্ট্রা। জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রার সক্ষমতার কারণে নির্ধারিত সময়ের ছয় মাস আগেই নতুন কিছু পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে ওপেনএআই।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে