স্মার্টফোনে ভিনগ্রহবাসীর হামলার জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হলো ব্রাজিলে, কেন

স্মার্টফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ব্রাজিলের হাজারো মানুষফাইল ছবি: রয়টার্স

গত শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎ স্মার্টফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ব্রাজিলের হাজারো মানুষ। বার্তাগুলোয় কোথাও ভিনগ্রহবাসীর হামলার কথা বলা হয়েছে, কোথাও আবার টর্নেডোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব বার্তা ভুয়া। দেশটিতে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভিনগ্রহবাসীর হামলার ঘটনা ঘটেনি। সরকারের জরুরি সতর্কতাব্যবস্থায় সাইবার হামলা চালিয়ে এসব ভুয়া বার্তা পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জরুরি সতর্কতাব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই জানতে চান, কীভাবে সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এমন বার্তা হাজারো মানুষের ফোনে পৌঁছাল। ব্রাজিলের সিভিল ডিফেন্স অ্যালার্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পাঠানো বার্তায় সাধারণত বন্যা, ভূমিধস, ঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়। কিন্তু শুক্রবার রাতে সেই প্ল্যাটফর্ম থেকেই অস্বাভাবিক কিছু বার্তা পাঠানো হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বেলো হরিজন্তের কিছু বাসিন্দার ফোনে একটি বার্তা আসে, যেখানে লেখা ছিল, ‘নিজেকে রক্ষা করুন: ভিনগ্রহবাসীর হামলা। মানুষ, আমরা এসে গেছি।’ অন্য কিছু ব্যবহারকারী টর্নেডোর সতর্কবার্তা পান। রিও ডি জেনিরোর কয়েকজন বাসিন্দার ফোনে আবার এলোমেলো শব্দ ও অসম্পূর্ণ বাক্যসংবলিত নোটিফিকেশন পৌঁছায়। এসব বার্তার একটিতে ছিল ‘মিসানথ্রপি’ শব্দ। এর অর্থ, মানুষের প্রতি ঘৃণা বা অবিশ্বাস। ভিন্ন শহরে ভিন্ন ধরনের বার্তা পৌঁছানোয় শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে মনে করেছিলেন।

ঘটনার পর ব্রাজিলের জাতীয় সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে জরুরি সতর্কতা প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্ল্যাটফর্মটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংস্থাটির তথ্যমতে, একটি অননুমোদিত পক্ষ দূর থেকে সিস্টেমে প্রবেশ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। কীভাবে এই প্রবেশাধিকার অর্জন করা হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেল পুলিশ। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সেবা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সাইবার হামলা হিসেবে দেখছেন। সরকারি জরুরি সতর্কতাব্যবস্থার মাধ্যমে বার্তাগুলো পাঠানো হওয়ায় অনেকেই সেগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর বেলো হরিজন্তের অনেক বাসিন্দা সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কেউ মাঝরাতে পরিবারের সদস্যদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলেন, আবার কেউ টর্নেডোর আশঙ্কায় ঘরের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।

সূত্র: টেকলুসিভ