স্মার্ট কৃষি বাস্তবায়নে সরকারের তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি
দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে কৃষি তথ্যের মানোন্নয়ন ও আন্তবিনিময় কাঠামো এবং নীতিমালা তৈরি করে স্মার্ট কৃষি বাস্তবায়নে আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অ্যাসপায়ার টু ইনোভেটের (এটুআই) মধ্যে একটি যৌথ সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. জালাল আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন এবং এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
স্মার্ট কৃষি বাস্তবায়নে এই চুক্তির আওতায় কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় যেসব স্মার্ট সমাধান গ্রহণ করবে, সেখানে অনুঘটক হিসেবে সহযোগিতা করবে এটুআই। এর অংশ হিসেবে দেশের কৃষিব্যবস্থায় উন্নয়ন আনতে একটি সার্বিক কৃষি তথ্যের মানোন্নয়ন ও আন্তবিনিময় কাঠামো তৈরিতে সহযোগিতা করবে এটুআই। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কৃষক ও খামারিদের সক্ষমতা বাড়ানো, স্মার্ট কৃষি যন্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করতে দুই মন্ত্রণালয়কে সার্বিক সহযোগিতাও দেবে এটুআই। এককথায়, স্মার্ট কৃষিব্যবস্থা নির্মাণের মধ্য দিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণে যৌথভাবে কাজ করবে এই তিন প্রতিষ্ঠান।
চুক্তি সইয়ের এই অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাহিদ রশীদ বলেন, ‘আমাদের ডিজিটাল উদ্ভাবনগুলো স্মার্ট করার সময় এখন। প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে উদ্ভাবনগুলোয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।’
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন বলেন, দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে আন্তমন্ত্রণালয় ও বেসরকারি পর্যায়ে তথ্য বিনিময়ের প্রবণতা কম। আইন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে এই সমস্যার সমাধান আনা সম্ভব হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে অনেক স্মার্ট সল্যুশন নিয়ে কাজ করছে। যে উদ্ভাবনগুলো জাতীয় পর্যায়ে বড় আকারে করা সম্ভব। বেসরকারি পর্যায়ে যারা স্মার্ট সল্যুশন নিয়ে কাজ করছে, আমরা তাদেরকেও যুক্ত করতে চাই।’
অনুষ্ঠানে দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, কৃষি তথ্য-উপাত্তের মানোন্নয়ন ও আন্তবিনিময়ের ক্ষেত্রে একটি কমিটি করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশে একটি স্মার্ট কৃষিব্যবস্থা বাস্তবায়ন ও জাতীয় কমিটিকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে এটুআই প্রস্তুত রয়েছে।
এটুআইয়ের নীতিমালা উপদেষ্টা আনীর চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সময়। স্মার্ট কৃষি বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্বে আসতে পারে। কৃষিতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এনে কৃষি খাতের উন্নতির অনেক সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও আইসিটি বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় পরিচালিত এটুআই বাংলাদেশ সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এই অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. এমদাদুল হক তালুকদার, এটুআইয়ের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ইনোভেশন মানিক মাহমুদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।