মহাকাশে প্রথম স্যাটেলাইট পাঠানোর ৬৯ বছর
১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল মানুষের তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ। ৬৯ বছর আগে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের পাঠানো ‘স্পুটনিক ১’ নামের স্যাটেলাইটটি মহাকাশ থেকে বিকল বা বিপিং শব্দ পৃথিবীতে পাঠালেও তা মহাকাশ গবেষণায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। আর তাই মাত্র ২২ ইঞ্চি ব্যাসের গোলকাকৃতির এই সাধারণ স্যাটেলাইটের হাত ধরেই মহাকাশ নিয়ে তুমুল প্রতিযোগিতা শুরু করে বিভিন্ন দেশ।
১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর কাজাখস্তানের বাইকনুর কস্রোমড্রোমের কাছাকাছি একটি স্থান থেকে স্পুটনিক ১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়। মহাকাশে পৌঁছানোর পর স্যাটেলাইটটি পৃথিবীর চারপাশে একটি উপবৃত্তাকার কক্ষপথ অনুসরণ করে ঘুরতে শুরু করে। তবে এতে কোনো বৈজ্ঞানিক যন্ত্রাংশ ছিল না।
স্পুটনিক ১ স্যাটেলাইটটির পাঠানো বিপিং শব্দ অ্যামেচার রেডিও অপারেটররাও শনাক্ত করতে পারতেন। স্যাটেলাইটটি কাছে এলে শব্দের গতি বাড়ত এবং দূরে গেলে কমে যেত, যা রেডিও অপারেটরদের এর গতিপথ শনাক্ত করতে সাহায্য করেছিল। তবে উৎক্ষেপণের মাত্র ২২ দিন পর ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে স্যাটেলাইটটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্পুটনিক ১ স্যাটেলাইটের অভাবনীয় সাফল্যে যুক্তরাষ্ট্রে উল্লাসের পরিবর্তে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল। আর তাই মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ দ্রুত এক্সপ্লোরার প্রজেক্টের অনুমোদন দেয় এবং প্রেসিডেন্ট ডয়েট ডি আইজেনহাওয়ার একটি বেসামরিক মহাকাশ সংস্থা গঠনের উদ্যাগ নেন, যা বর্তমানে নাসা নামে পরিচিত। ফলে স্পুটনিক ১ দিয়ে শুরু হওয়া সেই মহাকাশ প্রতিযোগিতা পরবর্তী সময়ে মানবজাতিকে অ্যাপোলো চন্দ্রাভিযানের মতো অবিশ্বাস্য সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।
সূত্র: স্টারলাস্ট