গ্রহাণুতে ল্যান্ডার অবতরণের দুঃসাহসিক পরিকল্পনা করেছেন বিজ্ঞানীরা
মহাবিশ্ব মানেই রহস্য। সেই সব রহস্যের শেষ কোথায়, কেউ জানে না। তাই গ্রহাণুর গঠন ও ভর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পৃথিবীর কাছাকাছি আসতে যাওয়া একটি গ্রহাণুতে নিজেদের তৈরি ল্যান্ডার বা চন্দ্রযান অবতরণের পরিকল্পনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এক্সল্যাবসের বিজ্ঞানীরা। নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘অ্যাপোফিস-এক্সএল’ নামের একটি মহাকাশযান তৈরি করছেন তাঁরা। মহাকাশযানটিতে করে ১০টির বেশি আকারে ছোট মহাকাশযান ও দুটি ল্যান্ডার বহন করা যাবে। ২০২৯ সালের এপ্রিলে গ্রহাণু ‘অ্যাপোফিস’ পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে চলে যাওয়ার সময় মহাকাশযানটিতে করে দুটি ল্যান্ডার গ্রহাণুটির পৃষ্ঠে অবতরণ করানো হবে। ফলে গ্রহাণুটির গঠন ও উপাদান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ছবি সংগ্রহের সুযোগ মিলবে।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ২০০৪ সালে আবিষ্কৃত অ্যাপোফিস গ্রহাণু চওড়ায় প্রায় ৩৪০ মিটার, যা নিউইয়র্কের এম্পায়ার স্টেট ভবনের প্রায় সমান। জুতার বক্সের সমান আকৃতির ল্যান্ডারগুলো গ্রহাণুটির পৃষ্ঠে অবতরণের সময় এবং পরে তথ্য ও ছবি পাঠাবে। এ বিষয়ে এক্সল্যাবসের প্রধান বিজ্ঞানী মিগুয়েল পাসকুয়াল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো গ্রহাণুর পৃষ্ঠ থেকে সরাসরি ছবি সংগ্রহ করা। এটি বিজ্ঞানের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর একটি মুহূর্ত হতে যাচ্ছে।’
পরিকল্পনা অনুযায়ী, অ্যাপোফিস পৃথিবী অতিক্রম করার প্রায় এক সপ্তাহ পর ল্যান্ডারের অবতরণপ্রক্রিয়া শুরু হবে, যাতে গ্রহাণুটির কক্ষপথে কোনো প্রভাব না পড়ে। এরপর অ্যাপোফিস গ্রহাণুর ৪০০ মিটার ওপর থেকে ল্যান্ডারগুলো মহাকাশযান থেকে মুক্ত করে দেওয়া হবে।
ভবিষ্যতে কোনো গ্রহাণু যদি সত্যিই সরাসরি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তবে সেটি ধ্বংস বা গতিপথ বদলের কৌশল জানার জন্য গ্রহাণুর গঠন ও ভর সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। আর তাই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুগুলো ধ্বংসের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নের বিষয়টিও এই অভিযানের সফলতার ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল