আকাশে চিনুন দ্য বিগ ডিপার

হাতের মাপে চেনা যায় আকাশছবি: নাসা

রাতের আকাশের বিশালতায় হারিয়ে যেতে কার না ভালো লাগে? কিন্তু অগণিত আলোকবিন্দুর ভিড়ে নির্দিষ্ট কোনো নক্ষত্র বা নক্ষত্রপুঞ্জ চিনে নেওয়া অনেকের কাছেই পাহাড়সম কঠিন মনে হয়। আপনার এই কঠিন কাজটিকে সহজ করতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক প্রকাশ করছে ওয়ান্ডার লেসনস। এক সপ্তাহের এই বিশেষ পাঠ্যক্রমে কীভাবে নক্ষত্রের সাহায্যে দিক নির্ণয় করতে হয়, মেঘের ধরন বুঝতে হয়, এমনকি সাধারণ গাছপালা ও শিলা চেনার উপায় শেখানো হচ্ছে।

নক্ষত্র দিয়ে শুরু

আকাশ পর্যবেক্ষণের রোমাঞ্চকর অভিযানের বিষয় হচ্ছে নক্ষত্র। আকাশ পর্যবেক্ষণ শেখার প্রথম দিনে উত্তর গোলার্ধের আকাশের সবচেয়ে পরিচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ নকশা দ্য বিগ ডিপার সম্পর্কে জানুন।

রাতের আকাশ চেনার হাতেখড়ি

পরিষ্কার রাতে শহর থেকে দূরে গেলে আমরা চাঁদ, বিভিন্ন গ্রহ ও অসংখ্য নক্ষত্র দেখতে পাই। এমনকি বড় শহরের আলোকদূষণের মধ্যেও কিছু উজ্জ্বল নক্ষত্র খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায়। আকাশ দেখার শুরুতে একটি বিশেষ কৌশল আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। একে বলা হয় হাতের মাপের কৌশল।

আপনার হাতটি সোজা সামনের দিকে বাড়িয়ে দিন। আকাশ মাপার জন্য কয়েকটি মাপ মনে রাখুন। কনিষ্ঠা আঙুলের এক পাশ থেকে অন্য পাশ পর্যন্ত এটি প্রায় ১ ডিগ্রি জায়গা দখল করে। মুষ্টিবদ্ধ হাতে আপনার মুষ্টির প্রস্থ প্রায় ১০ ডিগ্রি জায়গা দখল করে। বৃদ্ধাঙ্গুলি থেকে কনিষ্ঠা আঙুল পুরো প্রসারিত করলে দূরত্ব হয় প্রায় ২৫ ডিগ্রি। এই পরিমাপ ব্যবহার করে আপনি এক নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে অন্যটিতে সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।

দ্য বিগ ডিপার

একে অনেকেই মজা করে আকাশের রান্নাঘর বলে। দ্য বিগ ডিপার উত্তর গোলার্ধের আকাশে দেখা যাওয়া সবচেয়ে জনপ্রিয় নক্ষত্র নকশা। এটি দেখতে অনেকটা লম্বা হাতলওয়ালা একটি বড় চামচের মতো। এটি চিনে নেওয়া আকাশ পর্যবেক্ষণের প্রথম ধাপ। এর মাধ্যমেই আপনি আকাশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নক্ষত্রের হদিস পাবেন।

যেভাবে খুঁজে পাবেন

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উত্তর গোলার্ধের অধিকাংশ স্থান থেকেই সারা বছর এটি দেখা যায়। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ২০°৩৪´ উত্তর থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষাংশ, তাই আপনার জন্য সারা রাতই এটি আকাশে দৃশ্যমান থাকে। দক্ষিণ দিকের বিভিন্ন দেশে শরতের সন্ধ্যায় এটি দিগন্তের খুব কাছে থাকে বলে দেখা কিছুটা কঠিন হতে পারে। একে খুঁজে পেতে সব সময় আকাশের উত্তর দিকে তাকান।

আকাশের বড় ভালুক চিনুন

একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো দ্য বিগ ডিপার নিজেই একটি নক্ষত্রপুঞ্জ। আসলে তা নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি অ্যাস্টারিজম। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন রাতের আকাশকে ৮৮টি আনুষ্ঠানিক ভাগে ভাগ করেছে, যেগুলোকে নক্ষত্রপুঞ্জ বলা হয়। দ্য বিগ ডিপার হলো আসলে উর্সা মেজর নামক একটি বড় নক্ষত্রপুঞ্জের অংশ। লাতিন ভাষায় উর্সা মেজর মানে হলো বৃহৎ ভালুক। এই ভালুক কল্পনা করলে দেখা যায়, বিগ ডিপারের চামচ আকৃতির অংশটি ভালুকের পেছনের অংশ গঠন করেছে এবং চামচের হাতলটি ভালুকের লেজ তৈরি করেছে।

মহাকাশে অবিরাম যাত্রা

বিগ ডিপারের সাতটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বলটির নাম আলিওথ। এটি চামচের হাতল যেখানে বাটির সঙ্গে মিশেছে, তার ঠিক পাশেই অবস্থিত। একটি মজার তথ্য হলো, এই সাতটি নক্ষত্রের মধ্যে পাঁচটিই উর্সা মেজর মুভিং ক্লাস্টারের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ এরা মহাকর্ষ বল দ্বারা একে অপরের সঙ্গে শিথিলভাবে যুক্ত ও মহাকাশে একই দিকে একসঙ্গে ভ্রমণ করছে।

নিজেই খুঁজে নিন সাতটি তারা

বিগ ডিপার মূলত সাতটি প্রধান উজ্জ্বল নক্ষত্র নিয়ে গঠিত। আকাশ দেখার সময় আপনার সুবিধার্থে এই নক্ষত্রগুলোর অবস্থান চিনে নেওয়া জরুরি। হাতল থেকে শুরু করে বাটি পর্যন্ত তারা দেখতে পাবেন। অ্যালকাইদ হাতলের একদম শেষ প্রান্তে অবস্থিত। মিজার হাতলের মাঝখানের তারা। আলিওথ হাতলের গোড়ায় অবস্থিত সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা। মেগ্রেজ যেখানে হাতল আর বাটি মিলেছে, সেই সংযোগস্থলের তারা। ফেকডা বাটির নিচের দিকের এক কোণের তারা। মেরাক বাটির বাইরের ধারের নিচের তারা। ডুবে বাটির বাইরের ধারের ওপরের তারা।

আজ রাতে আপনার বাড়ির ছাদ বা জানালা দিয়ে উত্তর আকাশে দ্য বিগ ডিপারকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। আপনার প্রসারিত মুষ্টি দিয়ে মেপে দেখুন চামচের বাটি থেকে হাতল পর্যন্ত দূরত্ব কত ডিগ্রি হয়।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক