গাজরের উচ্ছিষ্ট অংশকে উচ্চমানের প্রোটিন উৎসে রূপান্তর করেছেন বিজ্ঞানীরা
বিশ্বের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টিকর খাবার উৎপাদনের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। অন্যদিকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে উপজাত বা উচ্ছিষ্ট তৈরি হয়, যা সাধারণত কোনো কাজে লাগে না। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গাজর প্রক্রিয়াকরণের উচ্ছিষ্ট ব্যবহার করে উচ্চমানের প্রোটিন তৈরি করা সম্ভব। ভোজ্য ছত্রাকের মাধ্যমে প্রোটিনের এক টেকসই উৎসও তৈরি করেছেন তাঁরা।
বিজ্ঞানীরা এই ছত্রাকজাত প্রোটিন ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে সসেজ তৈরি করেছেন। পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাধারণ উদ্ভিজ প্রোটিন দিয়ে তৈরি পণ্যের তুলনায় স্বেচ্ছাসেবীরা ছত্রাকজাত প্রোটিনের খাবার বেশি পছন্দ করেছেন। এ বিষয়ে বিজ্ঞানী মার্টিন গান্ড বলেন, খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশকে উচ্চমানের প্রোটিন উৎসে রূপান্তরের এ গবেষণা একটি পুনর্বৃত্তিমূলক অর্থনীতি বা সার্কুলার ইকোনমির দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি বিশ্বব্যাপী খাদ্যনিরাপত্তা এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ছত্রাক মাইসেলিয়ামের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, সবচেয়ে কার্যকর প্রোটিন উৎপাদন করা ছত্রাকের সন্ধান পেতে ১০৬টি ভিন্ন স্ট্রেইন পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে প্লুরোটাস জামোর বা পিঙ্ক অয়েস্টার মাশরুম সেরা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই ছত্রাক থেকে প্রাপ্ত প্রোটিনের মান প্রাণিজ বা উদ্ভিজ প্রোটিনের মতোই উন্নত। এ ছাড়া এতে চর্বির পরিমাণ কম ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ রয়েছে।
এই প্রোটিনের কার্যকারিতা যাচাই করতে বিজ্ঞানীরা বার্গারের জন্য বেশ কিছু ভেগান প্যাটি তৈরি করেন। সেখানে সয়া প্রোটিনের বদলে বিভিন্ন পরিমাণে মাইসেলিয়াম ব্যবহার করেন তাঁরা। আশ্চর্যজনকভাবে অনেকেই সয়া দিয়ে তৈরি প্যাটির চেয়ে সম্পূর্ণ মাইসেলিয়াম দিয়ে তৈরি প্যাটি বেশি পছন্দ করেছেন। একইভাবে ছোলার বদলে মাইসেলিয়াম দিয়ে তৈরি সসেজ ঘ্রাণ ও স্বাদের পরীক্ষায় এগিয়ে ছিল।
গবেষণার তথ্যমতে, এ প্রক্রিয়ায় প্রোটিন তৈরি করতে বাড়তি কোনো ফসলি জমির প্রয়োজন হয় না। পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব কমায়। বিজ্ঞানী মার্টিন গান্ডের মতে, উচ্ছিষ্ট থেকে প্রোটিন তৈরির এই পদ্ধতি খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় এক টেকসই সমাধান বয়ে আনবে।
সূত্র: সায়েন্স ডেইলি