মানুষের মহাকাশ অভিযানের সাড়ে ৬ দশক পূর্তি

স্পেসস্যুট পরিহিত নভোচারিউইকিমিডিয়া

১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল ছিল মানবসভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম স্বপ্ন জয়ের দিন। সেদিন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশ জয় করেছিলেন, যা মানবজাতির জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করে। আর তাই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০১১ সাল থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অব হিউম্যান স্পেস ফ্লাইট’ দিবস পালন করে আসছে জাতিসংঘ।

১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল ভস্তক-১ নভোযানে চড়ে ইউরি গ্যাগারিন যখন পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করেন, তখন তিনি কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমগ্র মানবজাতির প্রতিনিধি। মাত্র ১০৮ মিনিটের সেই যাত্রা চিরতরে বদলে দিয়েছিল বিজ্ঞানের ইতিহাস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১১ সালের ৭ এপ্রিল এক প্রস্তাবের মাধ্যমে ১২ এপ্রিলকে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশবিজ্ঞানের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, সদস্যদেশগুলোর কল্যাণ বৃদ্ধি এবং মহাকাশকে যেন কোনোভাবেই যুদ্ধের ময়দান হতে না দেওয়া হয়, তা নিশ্চিত করা।

মহাকাশ গবেষণার পথটি ছিল অসংখ্য সাহসিকতাপূর্ণ অর্জনে ঠাসা। ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক–১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এই যাত্রার শুরু হয়। এরপর একে একে যুক্ত হয়েছে ঐতিহাসিক সব সাফল্য। ১৯৬৩ সালের ১৬ জুন প্রথম নারী হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন ভ্যালেন্তিনা তেরেশকোভা। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই নীল আর্মস্ট্রং প্রথম মানুষ হিসেবে চাঁদের পৃষ্ঠে পা রাখেন। ১৯৭৫ সালের ১৭ জুলাই অ্যাপোলো এবং সয়ুজ মহাকাশযানের ডকিং বা সংযোগ স্থাপন, যা ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক যৌথ মহাকাশ মিশন।

১৯৬৭ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হয় মহাকাশের ম্যাগনা কার্টা হিসেবে পরিচিত আউটার স্পেস ট্রিটি। এই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে মহাকাশ বা চাঁদ এবং অন্যান্য গ্রহ কোনো দেশ নিজের বলে দাবি করতে পারবে না এবং এগুলো কেবল শান্তিপূর্ণ গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হবে।

সূত্র: জাতিসংঘ