চকলেট খেলে শরীরে বার্ধক্যের গতি বাড়ে না কমে

চকলেটরয়টার্স

চকলেট খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। মূলত তৈরির প্রক্রিয়া ও উপাদান ভেদে চকলেটের ধরন নির্ধারণ করা হয়। চকলেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ধরনের দুটি হলো ডার্ক ও মিল্ক চকলেট। এবার ডার্ক চকলেটের মধ্যে থিওব্রোমিন নামের একটি প্রাকৃতিক উপাদান শনাক্ত করেছেন লন্ডনের কিংস কলেজের বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, এই উপাদান মানুষের জৈবিক বার্ধক্য বা বুড়িয়ে যাওয়ার গতি কমিয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। এজিং সাময়িকীতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের রক্তে থিওব্রোমিনের মাত্রা ও তাদের জৈবিক বার্ধক্যের বিভিন্ন নির্দেশক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যাদের রক্তে এই উপাদান বেশি থাকে, তারা প্রকৃত বয়সের তুলনায় জৈবিক দিক থেকে বেশি তরুণ রয়েছেন। জৈবিক বয়স বলতে একজন মানুষ কত বছর বেঁচে আছে, তা বোঝায় না; শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কতটা কার্যকর রয়েছে, তা বোঝায়। এটি পরিমাপ করা হয় ডিএনএ মেথিলেশনের ওপর ভিত্তি করে। এ বিষয়ে কিংস কলেজ লন্ডনের এপিজেনোমিক্স বিভাগের অধ্যাপক জর্ডানা বেল জানিয়েছেন, ডার্ক চকলেটের একটি প্রধান উপাদানের সঙ্গে দীর্ঘকাল তরুণ থাকার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এর মানে এই নয় যে মানুষ এখনই প্রচুর ডার্ক চকলেট খাওয়া শুরু করবে।

বিজ্ঞানীরা কোকো বা কফির অন্যান্য উপাদান পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, শুধু থিওব্রোমিনের সঙ্গেই বার্ধক্য প্রতিরোধের এই বিশেষ সম্পর্কটি বিদ্যমান। জৈবিক বয়স নির্ধারণে দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমটি ডিএনএর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ ও দ্বিতীয়টি টেলোমেয়ারের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করা। টেলোমেয়ার ক্রোমোজোমের প্রান্তের একটি সুরক্ষা কবচ, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট হতে থাকে। দেখা গেছে, থিওব্রোমিন এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।

প্রসঙ্গত, থিওব্রোমিন বিশেষ একধরনের অ্যালকালয়েড। এটি কুকুরের জন্য বিষাক্ত হলেও মানুষের ক্ষেত্রে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমানোর মতো ইতিবাচক গুণের সঙ্গে জড়িত। বিজ্ঞানী রামি সাদ জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার। খাদ্যাভ্যাস আমাদের জিনের কার্যকলাপের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে বলেই এমনটা দেখা যাচ্ছে।

সূত্র: সায়েন্স ডেইলি