মহাকাশে শক্তিশালী রোমান স্পেস টেলিস্কোপ পাঠাল নাসা, অবস্থান করবে যেখানে

রোমান স্পেস টেলিস্কোপছবি: নাসা

মহাকাশ মানেই যেন মহাবিস্ময়। আবিষ্কারের শেষ নেই সেখানে। আর তাই মহাজাগতিক রহস্য অনুসন্ধানের পাশাপাশি মহাবিশ্বের নতুন তথ্য জানতে ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’ মহাকাশে পাঠিয়েছে নাসা। মহাবিশ্বের অন্ধকার শক্তি ও রহস্য উন্মোচনে নতুন টেলিস্কোপটি কাজ করবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি।

স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে করে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ
ছবি: রয়টার্স

নাসার তথ্যমতে, ৩০ আগস্ট ফ্লোরিডার কেপ কানাভেরাল অবস্থিত নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে করে রোমান স্পেস টেলিস্কোপটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। মহাজাগতিক রহস্য যেমন ডার্ক এনার্জি বা অন্ধকার শক্তি অনুসন্ধানের পাশাপাশি সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্যানেট খুঁজতেও সাহায্য করবে টেলিস্কোপটি। প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের এক প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা টেলিস্কোপটি চাঁদের বাইরের কক্ষপথের ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট টু নামের একটি স্থানে অবস্থান করবে, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ১০ লাখ মাইল বা ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরে।

উৎক্ষেপণের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ
ছবি: নাসা

রোমান স্পেস টেলিস্কোপের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প বিজ্ঞানী জুলি ম্যাকেনারি জানান, টেলিস্কোপটি বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন সূচনার পথ খুলে দেবে। অজানা এক জগতের দিকে পা বাড়াতে যাওয়ার মতো অনুভূতি এটি। এই অবজারভেটরি মূলত একটি গুপ্তচর স্যাটেলাইট প্রোগ্রামের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ন্যাশনাল রিকনেসান্স কার্যালয় এটি পরিচালনা করে থাকে। নতুন টেলিস্কোপটি দ্রুত মহাকাশ জরিপ করতে পারবে। পুরো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি জরিপ করতে হাবল স্পেস টেলিস্কোপের এক শতাব্দী সময় লাগলেও রোমান স্পেস টেলিস্কোপ এক মাসে সেই পুরো কাজ করতে পারবে।

রোমান স্পেস টেলিস্কোপের প্রকল্প ব্যবস্থাপক জ্যাকি টাউনসেন্ড জানান, বিজ্ঞানীরা পরবর্তী নব্বই দিন টেলিস্কোপটি চালু রাখতে কাজ করবেন। বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের জন্য তারা প্রস্তুতি নেবেন। শীতকালীন ছুটির আগেই টেলিস্কোপটি প্রথম উচ্চ রেজোল্যুশনের ছবি পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নাসার তথ্যমতে, মহাবিশ্বের সবচেয়ে নিখুঁত থ্রিডি (ত্রিমাত্রিক) মানচিত্র তৈরি করবে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এই কাজের মূল জরিপ শেষ হতে এক বছরের বেশি সময় লাগবে। এই জরিপে ২০০ কোটিরও বেশি গ্যালাক্সির তথ্য থাকবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাকাশে ডার্ক ম্যাটার রয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। ডার্ক এনার্জি থাকতে পারে প্রায় ৬৮ শতাংশ। ডার্ক ম্যাটারের আকর্ষণ এবং ডার্ক এনার্জির বিকর্ষণ পরিমাপ করবে রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা অমিমাংসিত বিভিন্ন রহস্যের সমাধান করতে পারবেন। হাজার হাজার নতুন গ্রহও আবিষ্কার করবে টেলিস্কোপটি।

সূত্র: রয়টার্স