ডুমস ডে ক্লকের কাঁটা আরও ৪ সেকেন্ড এগিয়ে এনেছেন বিজ্ঞানীরা, কারণ কী
মানবসভ্যতা কখন ধ্বংসের মুখে পড়বে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা প্রতিবছর একটি প্রতীকী ঘড়ির মাধ্যমে সময়ের হিসাব প্রকাশ করেন। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো হ্যারিস স্কুল অব পাবলিক পলিসির কেলার সেন্টারের বুলেটিন সেন্টারে থাকা ‘ডুমসডে ক্লক’ বা কেয়ামতের ঘড়ির কাঁটা নামে পরিচিত ঘড়িটি প্রতীকী হলেও পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির আশঙ্কা বিবেচনা করে সময় নির্ধারণ করেন বিজ্ঞানীরা। ঘড়িটিতে রাত ১২টা বাজতে কতক্ষণ বাকি, সে তথ্য পর্যালোচনা করে পৃথিবীতে মানুষ ধ্বংসের কত কাছে দাঁড়িয়ে আছে, তা–ই মূলত বোঝানো হয়ে থাকে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ঘড়ির কাঁটা মধ্যরাতের মাত্র ৮৫ সেকেন্ড আগে সেট করেছেন, যা মানব ইতিহাসে ধ্বংসের সবচেয়ে নিকটবর্তী সময়।
বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টস ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই সময় ঘোষণা করেছে। গত বছর এই সময় ছিল ৮৯ সেকেন্ড। অর্থাৎ গত এক বছরের মধ্যে পৃথিবী ধ্বংসের দিকে আরও ৪ সেকেন্ড এগিয়ে গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, পারমাণবিক ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানবজাতির জন্য অস্তিত্ব রক্ষার সংকট তৈরি করছে।
বিজ্ঞানীরা এই সময় এগিয়ে নেওয়ার পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ উল্লেখ করেছেন। বড় বড় দেশের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়ছে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নিউ স্টার্ট আগামী মাসে শেষ হতে যাচ্ছে। এটি নবায়নের কোনো লক্ষণ না থাকায় বিজ্ঞানীরা একটি লাগামহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা করছেন। এ ছাড়া উত্তর কোরিয়া, ইরান এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাও বড় প্রভাব ফেলেছে। ভুল তথ্য ছড়াতে ও সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বিশ্বকে এক তথ্যগত বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ২০২৫ সাল ছিল ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ বছর। প্রচণ্ড খরা, বন্যা ও তাপপ্রবাহের মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও বিশ্বনেতাদের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবকে বিজ্ঞানীরা দায়ী করেছেন।
১৯৪৭ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ম্যানহাটান প্রজেক্টে যুক্ত থাকা বিজ্ঞানীরা এই ঘড়ি তৈরি করেন। প্রতীকী ঘড়িটির মাধ্যমে পৃথিবী ধ্বংসের কত কাছে দাঁড়িয়ে আছে, তা বোঝানো হয়ে থাকে। এখানে ‘মধ্যরাত’ মানে হলো মানবজাতির সম্পূর্ণ বিলুপ্তি বা বিশ্ব ধ্বংস। বুলেটিনের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দ্রা বেল বলেন, ‘আমরা এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি। এই ৮৫ সেকেন্ড একটি সতর্কবাণী দিচ্ছে। আমাদের হাতে সময় খুব কম।’
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ঘড়ির কাঁটা পেছনে ফেরানো সম্ভব। তবে তার জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক স্তরে শক্তিশালী নেতৃত্ব, কূটনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কঠোর সংকল্প। ১৯৪৫ সালে পারমাণবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞ দেখার পর বিজ্ঞানীরা যে সচেতনতার আহ্বান জানিয়েছিলেন, বর্তমান পটভূমিতে তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া