জুনের শেষার্ধে বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে সামার ট্রায়াঙ্গল

এ মাসেই আকাশে দেখা যাবে মহাজাগতিক সব দৃশ্যছবি: নাসা

জুন মাসের শেষার্ধে বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু বা বর্ষাকাল পুরোপুরি জেঁকে বসে। আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর বৃষ্টির মধ্যে আকাশপ্রেমীদের জন্য পর্যবেক্ষণ কিছুটা কঠিন হলেও মেঘমুক্ত পরিষ্কার //////////////////জানালার//////// সুযোগ মিললেই ৩০ জুন পর্যন্ত রাতের আকাশ বেশ কিছু দুর্দান্ত মহাজাগতিক ঘটনা উপহার দেবে। বিশেষ করে বছরের দীর্ঘতম দিন বা কর্কটক্রান্তি, সন্ধ্যায় গ্রহদের বিদায়বেলার চমৎকার বিন্যাস এবং ভোরের আকাশে চাঁদের সঙ্গে শনি-মঙ্গলের লুকোচুরি এই সময়কালকে আকর্ষণীয় করে তুলবে।

২১ জুন দীর্ঘতম দিন

আগামীকাল ২১ জুন বাংলাদেশসহ উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে পালিত হবে বছরের দীর্ঘতম দিন এবং ক্ষুদ্রতম রাত। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় সামার সলসটিস। এই দিন সূর্য তার বার্ষিক পরিক্রমায় আকাশের সবচেয়ে উত্তর বিন্দুতে অবস্থান করে এবং কর্কটক্রান্তি রেখার (যা বাংলাদেশের ঠিক মাঝখান দিয়ে গেছে) ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। ২১ জুন ঢাকায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময় হবে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট। এই দিনের পর থেকে উত্তর গোলার্ধে দিন আস্তে আস্তে ছোট এবং রাত বড় হতে শুরু করে।

সন্ধ্যার পশ্চিম আকাশে গ্রহদের অবস্থান

জুনের শুরুর দিকে শুক্র ও বৃহস্পতিবার যে ঐতিহাসিক মহামিলন আমরা দেখেছি, মাসের শেষার্ধে এসে তাদের সেই দূরত্ব অনেকটা বেড়ে যাবে। জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে শুক্র পশ্চিম আকাশে আরও উঁচুতে অবস্থান করবে এবং এর উজ্জ্বলতা ঢাকার আলোঝলমলে আকাশেও খালি চোখে স্পষ্ট ধরা দেবে। অন্যদিকে সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতি সূর্যের খুব কাছাকাছি চলে আসায় পশ্চিম দিগন্তের একদম নিচে নেমে যাবে। ফলে জুনের শেষ সপ্তাহে সূর্যাস্তের ঠিক পর অত্যন্ত অল্প সময়ের জন্য একে দেখা যাবে, এরপর এটি গোধূলির আলোয় হারিয়ে যাবে।

এ ছাড়া মাসের প্রথমার্ধে বুধ গ্রহকে যেভাবে উঁচুতে দেখা গিয়েছিল, ১৯ জুনের পর থেকে এটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকে এবং মাসের শেষ দিকে এসে সূর্যের তীব্র আলোয় পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যাবে।

ভোরের আকাশে চাঁদ, শনি ও মঙ্গলের উপস্থিতি

জুনের শেষ সপ্তাহের সবচেয়ে চমৎকার দৃশ্যটি তৈরি হবে ভোরের আকাশে। রাতের শেষ ভাগে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে শনি ও মঙ্গলের কাছাকাছি চাঁদের পরিক্রমা দেখা যাবে। ২৭ জুন শেষ রাতে (ভোর চারটার দিকে) দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে তাকালে ক্ষীয়মাণ চাঁদের খুব কাছাকাছি বলয়ধারী গ্রহ শনিকে দেখা যাবে। টেলিস্কোপ দিয়ে দেখলে শনির বলয় ও চাঁদের ক্রেটার বা গর্তগুলো একই সঙ্গে দারুণ দেখাবে। ঠিক দুই দিন পর ২৯ জুন ভোরে পূর্ব দিগন্তের কাছাকাছি মঙ্গলের লালচে আভার ঠিক পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে বাঁকা চাঁদ। সূর্যোদয়ের ঠিক ঘণ্টাখানেক আগে খালি চোখেই এই দুই জ্যোতিষ্কের মিলনমেলা স্পষ্ট বোঝা যাবে।

মধ্যরাতের আকাশে সামার ট্রায়াঙ্গল

জুন মাসের শেষ দিকে রাত ১০টার পর আকাশ যদি মেঘমুক্ত থাকে, তবে মাথার ওপর থেকে পূর্ব আকাশজুড়ে এক বিশাল কাল্পনিক ত্রিভুজ দেখা যাবে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানে সামার ট্রায়াঙ্গল বা গ্রীষ্মকালীন ত্রিভুজ নামে পরিচিত। তিনটি ভিন্ন নক্ষত্রপুঞ্জের তিনটি অত্যন্ত উজ্জ্বল নক্ষত্র নিয়ে এটি গঠিত। লাইরা নক্ষত্রপুঞ্জের ভেগা এই ত্রিভুজের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও নীলাভ নক্ষত্র। বাকি দুটি নক্ষত্রপুঞ্জ অ্যাকুইলা নক্ষত্রপুঞ্জের আলটায়ার ও সাইগনাস নক্ষত্রপুঞ্জের ডেনেব। ঢাকার আকাশ থেকেও এই তিনটি উজ্জ্বল বিন্দুকে খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায়, যা উত্তর গোলার্ধে পুরোদমে গ্রীষ্ম ও বর্ষার আগমনকে নির্দেশ করে। এ ছাড়া ৩০ জুনের মধ্যে চাঁদ তার পূর্ণ রূপ হারিয়ে অমাবস্যার দিকে এগিয়ে যাবে (২৭ জুন পূর্ণিমার পর), যা জুনের শেষ দিনগুলোতে মেঘমুক্ত গভীর রাতের আকাশ দেখার জন্য চমৎকার অন্ধকার পরিবেশ তৈরি করবে।

বর্ষাকালীন আকাশ পর্যবেক্ষণ

এ সময়ে মেঘের কারণে নিয়মিত আকাশ দেখা না গেলেও ভারী বৃষ্টির ঠিক পরপরই যখন মেঘ কেটে যায়, তখন ঢাকার বাতাস একদম ধূলিকণামুক্ত ও স্বচ্ছ হয়ে ওঠে। গ্রহ-নক্ষত্র দেখার জন্য সেই মুহূর্তগুলোই বছরের সেরা সময়। যেহেতু জুনের শেষ দিকে বৃহস্পতি ও মঙ্গল দিগন্তের বেশ কাছাকাছি থাকবে, তাই এগুলো দেখার জন্য উঁচু ভবনের ছাদ ব্যবহার করুন।

সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি ডটকম, সাইটেক