সন্ধ্যার পর আকাশে দেখা যাবে হ্যালির ধূমকেতুর উল্কাবৃষ্টি
পৃথিবী বর্তমানে সূর্যের চারদিকে হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। আর তাই প্রতিবছর এই সময়ে আকাশে হ্যালির ধূমকেতুর উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। মহাজাগতিক এ ঘটনা ‘অ্যাকুয়ারিডস’ নামে পরিচিত। বায়ুমণ্ডলে ধূমকেতুর ধূলিকণার পুড়ে যাওয়ার এই দৃশ্য মে মাসের শেষ পর্যন্ত চললেও ৬ মে পর্যন্ত সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে।
আমেরিকান মেটিওর সোসাইটির তথ্যানুযায়ী, এ বছরের ৫ মে উল্কাবৃষ্টি দেখার সেরা সময়, যখন এর বিকিরণবিন্দু (আকাশের সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকে। এ বছর দক্ষিণ গোলার্ধের দর্শকেরা সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা পাবেন। কারণ, সেখানে বিকিরণবিন্দুটি আকাশের অনেক উঁচুতে অবস্থান করবে এবং প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। উত্তর গোলার্ধে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০টি উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে উজ্জ্বল ওয়ানিং গিব্বাস বা ক্ষীয়মাণ চাঁদের আলোর কারণে ক্ষীণ উল্কাগুলো ঢাকা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পৃথিবীর কক্ষপথ মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষের স্রোতের মধ্য দিয়ে আবর্তিত হয়। এ কারণেই প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট উল্কাবৃষ্টিগুলো ঘটে। এই ধূলিকণাগুলো মূলত ধূমকেতু বা গ্রহাণুর ফেলে যাওয়া অবশিষ্টাংশ, যেগুলো মূলত সূর্যের চারদিকে নিজস্ব কক্ষপথে ঘোরে। যখন এই বস্তুগুলো সূর্যের কাছাকাছি আসে, তখন এদের পৃষ্ঠের নিচে আটকে থাকা বরফ উত্তপ্ত হয়ে বাষ্পীভূত হতে শুরু করে এবং বাইরের দিকে ধুলা ও গ্যাস নিক্ষেপ করে। যখন পৃথিবী সেই ধূলিকণার স্তরের মধ্য দিয়ে যায়, তখন এর কিছু অংশ বায়ুমণ্ডলে আছড়ে পড়ে। প্রচণ্ড তাপে পুড়ে যাওয়ার সময় এগুলো একটি উজ্জ্বল পথ বা লেজ তৈরি করে, যা খালি চোখে দেখা যায়। আকাশের যে বিন্দু থেকে এগুলো ঝরে পড়ছে বলে মনে হয়, তাকে বলা হয় বিকিরণবিন্দু।
প্রসঙ্গত, অ্যাকুয়ারিডস হলো ১পি/হ্যালি নামের ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ, যা হ্যালির ধূমকেতু নামে বেশি পরিচিত। এই বিখ্যাত ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর অন্তর একবার পৃথিবীর আকাশে দেখা দেয়। ১৯৮৬ সালে এটি শেষবার দেখা গিয়েছিল। এই উল্কাবৃষ্টির বিকিরণবিন্দুটি কুম্ভ রাশির নক্ষত্রমণ্ডলীর কাছাকাছি অবস্থিত। আগামী জুলাই মাসেও একসঙ্গে তিনটি উল্কাবৃষ্টি দেখা যাবে।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট