নাইট্রেট–দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে যেভাবে
বিশ্বজুড়ে কৃষিনির্ভর অঞ্চলে নাইট্রেট–দূষণ এক ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে নদ–নদী, খাল–বিল ও ভূগর্ভস্থ পানিতে নাইট্রেট রাসায়নিক যৌগ মিশে যাচ্ছে। একবার পানিতে প্রবেশ করলে এই নাইট্রেট দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সুপেয় পানি ও মাছের উৎস হিসেবে পরিচিত বড় বড় হ্রদে পৌঁছে যাচ্ছে। পানিতে নাইট্রেটের উচ্চ মাত্রা জলজ প্রাণীর ক্ষতি করার পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
পূর্ব চীনের কৃষি ও নগরাঞ্চল মিশ্রিত একটি এলাকায় নাইট্রেট কীভাবে পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইয়াংজি নদীর বদ্বীপ। গবেষণার তথ্যমতে, পানি যখন খেত, পুকুর ও খালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চীনের অন্যতম বৃহৎ স্বাদুপানির হ্রদ তাইহুতে পৌঁছায়, তখন তা নাইট্রেট বহন করে নিয়ে যায়। সার, গোবর বা বর্জ্য থেকে আসা নাইট্রোজেন যখন মাটি বা পানির অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, তখন নাইট্রেট তৈরি হয়। বৃষ্টি ও সেচের পানির মাধ্যমে এই নাইট্রেট কাছের জলাশয়ে ধুয়ে চলে যায়। এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানিও মাটির স্তরের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নাইট্রেট বহন করে।
নানজিং নরমাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়ানহুয়া ওয়াং জানিয়েছেন, নাইট্রেট–দূষণ কোনো একটি নির্দিষ্ট উৎস থেকে আসে না। এটি এক জায়গায় স্থির থাকে না। তাইহু হ্রদের উজানে দুটি নদী ব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী কৃষি অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের পানির প্রায় ৭০ শতাংশ ও ভূগর্ভস্থ পানির ৬০ শতাংশ নাইট্রেটের উৎস পশুর মলমূত্র ও গ্রামীণ বর্জ্য। মাছের পুকুর থেকে নির্গত বর্জ্য পানি নাইট্রেট–দূষণের একটি বড় কারণ। মাছের খাবার, বর্জ্য ও পুকুরের পানিনিষ্কাশন খালের মাধ্যমে সরাসরি বড় জলাশয়ে মিশে যাচ্ছে। রাসায়নিক সারের তুলনায় এসব উৎস অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।
নাইট্রেট প্রবাহের সময় স্থির থাকে না। মাটির উপরিভাগের পানিতে অণুজীবের প্রভাবে নাইট্রোজেন থেকে নাইট্রেট তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত ঘটে। অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানিতে অক্সিজেনের অভাবে অণুজীব নাইট্রেটকে অন্য রূপে ভেঙে ফেলে। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয়ভাবে নাইট্রেট কমলেও নাইট্রাস অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এটি আবার একটি শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। ফলে পানিদূষণ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের দুশ্চিন্তাও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞানী ওয়াং জানান, ভূপৃষ্ঠের পানি ও ভূগর্ভস্থ পানি কোনো আলাদা ব্যবস্থা নয়। তারা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেন বহন করে। তাই কার্যকর পানি সুরক্ষার জন্য উভয় পথকেই বিবেচনায় নিতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বড় বড় কৃষি এলাকায় এমন প্রবণতা দেখা যায়। গবেষণার বিভিন্ন তথ্য নাইট্রোজেন সাইক্লিং নামে বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: আর্থ ডটকম