ইতালির অ্যাপেনাইন পর্বতমালার গভীর ভূত্বকে ঘটে চলেছে অদ্ভুত পরিবর্তন
আমাদের পায়ের নিচে পৃথিবীর ধীরগতির বলয় সব সময় ঘুরেই চলেছে। বিভিন্ন মহাদেশ একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। বিভিন্ন টেকটনিক প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। তবে ইতালির অ্যাপেনাইন পর্বতমালায় গভীরে এক অদ্ভুত ভূগর্ভস্থ ঘটনা ঘটছে। ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেফানো তাভানির নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের ভূত্বক জ্যাকেটের খোলা জিপের মতো উন্মুক্ত হয়ে দুই পাশে সরে যাচ্ছে। পাহাড়ের বাইরের দিকটা সংকুচিত হলেও ভেতরের ভূত্বক পরস্পরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ কারণে কোনো অংশ ওপরের দিকে উঠছে আবার কোনো অংশ নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, ইতালির নিচে থাকা পৃথিবীর ভূত্বক জিপের মতো উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে ভূতত্ত্বের ভাষায় বলা হয় ডিলামিনেশন। এর ফলে নিচের ঘন ভূত্বক এবং লিথোস্ফিয়ার ওপরের অংশ থেকে আলাদা হয়ে ম্যান্টলে তলিয়ে যায়। চেইন জিপের মতো এই খোলা অংশ ধীরে ধীরে ইতালির নিচ থেকে অ্যাড্রিয়াটিক অববাহিকার দিকে এগিয়ে চলেছে।
অ্যাপেনাইন পর্বতমালা প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। লাখ লাখ বছর ধরে টেকটনিক প্লেটের ধাক্কায় এই পাহাড় তৈরি হয়েছে। প্লেটগুলো যখন ম্যান্টলে তলিয়ে যাচ্ছিল, তখন পেছনের ভূত্বক প্রসারিত হয়ে টাইরেনিয়ান সাগর তৈরি করে। এর ফলে একদিকে যেমন সংকোচন ঘটে, অন্যদিকে ভূত্বক প্রসারিত হতে থাকে। প্রায় ২০ লাখ বছর আগে এই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। টাইরেনিয়ান সাগর সৃষ্টিকারী প্রসারণ প্রক্রিয়া শেষ হলেও পর্বতমালা সংকুচিত হওয়ার অদ্ভুত প্রবণতা চলতে থাকে। বিজ্ঞানীরা দশক ধরে চলা ভূমিকম্পের তথ্য, জিপিএস পরিমাপ এবং উপগ্রহের রাডার পর্যবেক্ষণ করে এই রহস্যের সমাধান করেছেন।
বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেছেন, গভীর ভূত্বকের একটি অংশ অন্য অংশের ওপর ওভারল্যাপ করে আছে। টেপ লাগানো টেনিস বলের টেপ খোলার সময় যেভাবে পৃষ্ঠ থেকে আলাদা হয়ে যায়, ঠিক একইভাবে নিচের ভূত্বক আলাদা হচ্ছে। জিপিএস পরিমাপে দেখা গেছে, পাহাড়ের বেল্টটি প্রতিবছর প্রায় চার মিলিমিটার করে প্রসারিত হচ্ছে। এই আবিষ্কার ভূতত্ত্ববিদদের জন্য বড় একটি সাফল্য। বাস্তব সময়ে ম্যান্টল-লিথোস্ফিয়ারের এই পিল-ব্যাক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। গবেষকদের এই গবেষণাপত্রটি ‘কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ নামের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট