আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তোলা অদ্ভুত এই ছবির রহস্য কী

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ভেতরে তোলা এই ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা চলছেনাসা

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ভেতরে তোলা একটি ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা চলছে। ছবিতে ডিমের মতো দেখতে অজানা বস্তু বা প্রাণীর শরীর থেকে বেরিয়ে আসা কালচে টেন্টাকলসদৃশ অংশ থাকায় অনেকেই এটিকে ভিনগ্রহের প্রাণী বা অজানা কোনো জীব বলে ধারণা করছেন।

খুদে ব্লগ লেখার সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) অদ্ভুত ছবিটি প্রকাশ করেন নাসার নভোচারী ডন পেটিট। এরপর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় আলোচনা। ছবিটির পরিচয় সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ায় কেউ লিখেছেন, ‘এটাকে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা উচিত’, কেউ আবার লিখেছেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, কোনো ডিম ফেটে কিছু একটা বের হতে যাচ্ছে।’

ছবিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হওয়ায় ডন পেটিট জানান, ছবিটি আসলে একটি আলুর এবং এটি মহাকাশে পরীক্ষামূলকভাবে জন্মানো হয়েছে। আলুটি তিনি তাঁর অবসর সময়ে পরিচালিত একটি ছোট ‘স্পেস গার্ডেন’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সঙ্গে নিয়েছিলেন। একটি অস্থায়ী গ্রো লাইট ব্যবস্থার মধ্যে ভেলক্রো ব্যবহারে আলুটিকে স্থির করে রাখা হয়েছিল। মাধ্যাকর্ষণ না থাকায় আলুর শিকড় নির্দিষ্ট দিকে না গিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, যা ছবিতে টেন্টাকলের মতো দেখাচ্ছে। মহাকাশে উদ্ভিদের বৃদ্ধি পৃথিবীর তুলনায় ধীরগতির হয়।

আরও পড়ুন

পুষ্টিগুণ ও উৎপাদন দক্ষতার বিচারে আলুকে অত্যন্ত কার্যকর ফসল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর তাই ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আলু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা। এ প্রসঙ্গে পেটিট জনপ্রিয় বিজ্ঞান কল্পকাহিনি চলচ্চিত্র ‘দ্য মার্টিন’–এর উদাহরণ তুলে ধরেন। যেখানে মহাকাশে টিকে থাকার জন্য আলু চাষের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছবিটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরসেরও কমতি ছিল না। কেউ শূন্য মাধ্যাকর্ষণে আলু ভাজার যন্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন, কেউ আবার ভেলক্রো ব্যবস্থাকে ‘ডকিং অ্যাডাপ্টার’ হিসেবে উল্লেখ করে রসিকতা করেছেন।

আরও পড়ুন

নাসা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফল, সবজি ও ফুল উৎপাদনের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতে টমেটো, মরিচ, বেরিসহ অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব খাদ্য মহাকাশচারীদের পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি মহাকাশের বিকিরণজনিত ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

সূত্র: ডেইলি মেইল