পৃথিবী সম্পর্কে নাসার নভোচারীর অদ্ভুত ভাবনা

রন গারানছবি: নাসা

‘বিশাল শূন্যতার মহাকাশ মাঝেমধ্যেই আমাদের অনেক ভাবনাকে বদলে দেয়।’ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে টানা ১৭৮ দিন কাটানোর পর জীবনের এক পরম সত্যের মুখোমুখি হয়েছেন নাসার নভোচারী রন গারান। ২০১১ সালের ৪ এপ্রিল মহাকাশে পাড়ি জমানো এই নভোচারী একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পৃথিবীতে ফিরে আসেন। মহাকাশে থাকাকালে প্রায় তিন হাজারবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করা রন গারান মনে করেন, ‘আমাদের বর্তমান সমাজব্যবস্থা একটি ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।’

মহাকাশ স্টেশনের জানালা দিয়ে পৃথিবীকে দেখার সময় রন গারান লক্ষ করেন, ওপর থেকে আমাদের এই জগৎটাকে যতটা সুন্দর দেখায়, আমরা পৃথিবীকে ঠিক সেভাবে পরিচালনা করছি না। মহাকাশ থেকে পৃথিবীর নাজুক জীবনসহায়ক ব্যবস্থা, বায়ুমণ্ডল, মহাসাগর এবং বাস্তুসংস্থান স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। কিন্তু মানবসমাজ এই অমূল্য সম্পদগুলোকে এমনভাবে ব্যবহার করছে, যেন এগুলো কেবল বিশ্ব অর্থনীতির সেবা করার জন্যই টিকে আছে।

এক সাক্ষাৎকারে গারান বলেন, ‘আমাদের বর্তমান সমাজব্যবস্থা একটি ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা মনে করি, পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি অংশমাত্র। অথচ বাস্তবতা ঠিক উল্টো। আমাদের চিন্তাপ্রক্রিয়াকে অর্থনীতি, সমাজ ও গ্রহ—এই তিন ধারা থেকে সরিয়ে গ্রহ, সমাজ ও অর্থনীতির ধারায় নিয়ে আসতে হবে। তবেই আমরা আমাদের বিবর্তনপ্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিতে পারব।’

নভোচারীদের এই মানসিক পরিবর্তনকে বিজ্ঞানীরা ওভারভিউ ইফেক্ট হিসেবে অভিহিত করেন। ১৯৮৭ সালে মহাকাশ গবেষক ফ্র্যাংক হোয়াইট প্রথম এই শব্দ ব্যবহার করেন। এটি এমন এক গভীর সচেতনতা, যা মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখার সময় অনেক নভোচারী অনুভব করেন। তাঁরা পৃথিবীর সৌন্দর্য ও ভঙ্গুরতার প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা এবং সমগ্র মানবজাতির সঙ্গে এক শক্তিশালী সংযোগ অনুভব করেন। গারানের মতে, ‘এই ওভারভিউ ইফেক্ট হলো সচেতনতার সেই মুহূর্ত, যখন মানুষ বুঝতে পারে যে আমরা সবাই একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।’

রন গারান আরও বলেন, ‘আমরা মহাকাশের ভেতরে বাস করি না; বরং আমরাই মহাকাশ। আমরা হচ্ছি মহাকাশের সেই অংশ, যা ধীরে ধীরে নিজের সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের জন্য মহাকাশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পৃথিবীতে থেকেও আমরা অরবিটাল পারসপেক্টিভ অর্জন করতে পারি।’

২০১৫ সালের জুলাই মাসে রন গানার বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন।

সূত্র: ডেইলি মেইল