আমাদের সৌরজগতে কি সত্যিই আরও একটি গ্রহ ছিল
আমাদের সৌরজগতে গ্রহের সংখ্যা আটটি। চিরচেনা সৌরজগৎ বর্তমানে শান্ত ও সুশৃঙ্খল থাকলেও কোটি কোটি বছর আগে কিন্তু এমন ছিল না। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আদিম মহাকাশের বিশৃঙ্খল সময়ে তৈরি হওয়া অনেক গ্রহ সময়ের বিবর্তনে চিরতরে হারিয়ে গেছে। সম্প্রতি সাহারা মরুভূমিতে সন্ধান পাওয়া অতি প্রাচীন ও বিরল উল্কাপিণ্ড পরীক্ষা করে সৌরজগতের তেমনই এক হারিয়ে যাওয়া গ্রহের অকাট্য প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই আদি গ্রহ বা প্রোটোপ্ল্যানেটের অনন্য ভূতাত্ত্বিক গঠন গ্রহের বিবর্তনসম্পর্কিত বিজ্ঞানীদের বহু বছরের পুরোনো ধারণাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, আমাদের সৌরজগতে একসময় অতিরিক্ত আরও একটি গ্রহের অস্তিত্ব ছিল, যা পরে কোনো এক সময় ধ্বংস হয়ে মহাকাশ থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে। মহাজাগতিক এক সংঘাত ও বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই হারিয়ে যাওয়া গ্রহটি আকারে প্রায় মঙ্গল গ্রহের সমান ছিল। এই প্রাচীন গ্রহের টুকরা বা অবশিষ্টাংশ যদি কোনোভাবে পৃথিবীতে এসে না পৌঁছাত, তবে এর অস্তিত্বের কথা চিরকালই অজানা থেকে যেত।
সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স লেটার্সে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা এই হারিয়ে যাওয়া গ্রহের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাজির করেছেন। আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের আর্থ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক অ্যারন বেল এই আবিষ্কার নিয়ে নিজের বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘একসময় মহাকাশে এত বড় একটি গ্রহের অস্তিত্ব ছিল, তা অবিশ্বাস্য। আমরা কেবল এটি জানতে পেরেছি, কারণ এর কয়েকটি টুকরা বা অবশিষ্টাংশ পৃথিবীতে এসে পড়েছিল। যেসব উপাদান দিয়ে আদি গ্রহটি তৈরি হয়েছিল, তা পৃথিবী এবং মঙ্গল গ্রহের উপাদান থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এটি আমাদের সৌরজগতের প্রাথমিক ইতিহাসে গ্রহ গঠনের একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং পৃথক বিবর্তনীয় পথকে নির্দেশ করে।’
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, সাহারা মরুভূমিতে সন্ধান পাওয়া উল্কাপিণ্ডের টুকরোটি সৌরজগতের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন আগ্নেয় শিলাগুলোর অন্যতম। আজ থেকে প্রায় ৪৫৬ কোটি বছর আগে সৌরজগৎ তৈরির কয়েক লাখ বছরের মধ্যে এই শিলা গঠিত হয়েছিল। এই উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে অত্যন্ত বিরল। এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে উদ্ধার হওয়া ৮০ হাজারের বেশি উল্কাপিণ্ডের মধ্যে মাত্র ৬৮টি উল্কাপিণ্ড হলো অ্যাংরাইট শ্রেণির। উল্কাপিণ্ডটির ভেতরে ক্লিনোপাইরক্সিন খনিজ ক্রিস্টাল বা স্ফটিকের পাশাপাশি অবিশ্বাস্য রকমের উচ্চ মাত্রায় অ্যালুমিনিয়াম রয়েছে। ভূবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, পাথরের ভেতর এত উচ্চ মাত্রার অ্যালুমিনিয়াম থাকার অর্থ হলো শিলাটি মাটির অনেক গভীরে প্রচণ্ড চাপের মধ্যে তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি