পারমাণবিক পরীক্ষায় অকালে প্রাণ হারিয়েছেন ৪০ লাখ মানুষ
পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার এক ভয়াবহ তথ্য জানা গেছে নতুন একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে। ১৯৪৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে চালানো ২ হাজার ৪০০টির বেশি পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৪০ লাখ মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করেছেন। নরওয়েজিয়ান পিপলস এইডের ৩০৪ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারমাণবিক পরীক্ষা বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক ম্যাগডালেনা স্টাওকোস্কি জানান, আজকের দিনে পৃথিবীতে জীবিত প্রতিটি মানুষের হাড়ের মধ্যে বায়ুমণ্ডলীয় পারমাণবিক পরীক্ষার তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ রয়েছে। পারমাণবিক বিকিরণের ফলে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, ক্যানসার এবং হৃদ্রোগের শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বায়ুমণ্ডলীয় পরীক্ষার কারণে ভবিষ্যতে অন্তত ২০ লাখ অতিরিক্ত মানুষ ক্যানসারে মারা যেতে পারেন। একইসংখ্যক মানুষ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অকালে প্রাণ হারাবেন। বিকিরণের প্রভাবে পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি ৫২ শতাংশ বেশি। শিশু ও ভ্রূণ এই বিকিরণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিবেদনে পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, ব্রিটেন, পাকিস্তান, ভারত, ইসরায়েল ও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আলজেরিয়াতে ফ্রান্স তেজস্ক্রিয় বর্জ্য পুঁতে রেখেছে। সেই নির্দিষ্ট স্থানের তথ্য আজও প্রকাশ করা হয়নি। কিরিবাতিতে ব্রিটিশ ও আমেরিকান পরীক্ষার স্বাস্থ্যগত প্রভাব–সংক্রান্ত তথ্য এখনো গোপন রাখা হয়েছে। ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার তাহিতির সংসদ সদস্য হিনামোয়ুরা ক্রস জানান, সেখানে ১৯৩টি পারমাণবিক বোমা ফাটানো হয়েছিল, যার মধ্যে একটি ছিল হিরোশিমার বোমার চেয়ে ২০০ গুণ শক্তিশালী। জনগণকে দশকের পর দশক গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত নভেম্বরে পুনরায় পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করার ইঙ্গিত দেওয়ার পর এই প্রতিবেদনটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক ইভানা হিউজ সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক পরীক্ষার পরিণতি অত্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী এবং গুরুতর। নতুন করে পরীক্ষা শুরু করা হবে অত্যন্ত বিপজ্জনক। কোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশই এই পরীক্ষার জন্য আজ পর্যন্ত ক্ষমা চায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা এবং ঝুঁকি শিক্ষার অভাব থাকায় মানুষ এখনো অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে। এনপিএ প্রধান রেমন্ড জোহানসেন আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিবেদন পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার চিরতরে বন্ধ করতে বিশ্ববাসীকে উদ্বুদ্ধ করবে।
সূত্র: এনডিটিভি ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট