৯ বছরে বদলে গেছে ঢাকার মানচিত্র

স্যাটেলাইট থেকে তোলা ঢাকার মানচিত্রছবি: ইএসএ

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ইএসএ) কোপার্নিকাস সেন্টিনেল-২ অভিযান থেকে বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। স্যাটেলাইটের দুটি ছবিতে ঢাকার চারপাশের ভূপ্রকৃতির বিশাল পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তোলা এই ছবি দুটির তুলনা করলে দেখা যায়, গত ৯ বছরে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা বেশ বদলেছে।

সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইটের ছবি ফলস কালার বা কৃত্রিম রঙে প্রসেস করা হয়েছে। এতে গাছপালাকে লাল, জলাশয়কে গাঢ় নীল বা কালো এবং জনবসতি বা কংক্রিটের এলাকাকে ধূসর রঙে দেখানো হয়েছে। রঙের এই পার্থক্য গত ৯ বছরে এই অঞ্চলে পরিবর্তনের মাত্রা বুঝতে সাহায্য করছে।

ইএসএ জানিয়েছে, ধূসর রঙে চিহ্নিত ঢাকা শহরের নদী এবং ছোট ছোট খালের এক জটিল জালের ওপর অবস্থিত। শহরের ভেতর দিয়ে মূলত ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা এবং শীতলক্ষ্যা নদী প্রবাহিত হয়েছে। পুরো অঞ্চলটি বড় বড় নদী দিয়ে ঘেরা। পশ্চিমে পদ্মা, উত্তর-পশ্চিমে যমুনা এবং পূর্বে মেঘনা নদী অবস্থিত। যমুনা তিব্বতে উৎপন্ন হয়ে ভারত ঘুরে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যমুনা দক্ষিণে এসে পদ্মার সঙ্গে মিশেছে। পরবর্তী সময়ে এই মিলিত স্রোত মেঘনার সঙ্গে মিশে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। এই বিশাল নদীগুলোর মাঝখানের নিচু ভূমি মূলত পলি জমে গঠিত। যমুনা-পদ্মা নদীর আশপাশে অনেক শুকিয়ে যাওয়া বা জেগে ওঠা চরের দেখা মিলেছে।

২০১৭ ও ২০২৬ সালের ছবির তুলনা করলে পদ্মা নদীর আকার ও প্রস্থের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চোখে পড়ে। বিশেষ করে মেঘনার সঙ্গে যেখানে পদ্মা মিশেছে, সেই মোহনায় পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি। ২০১৭ সালের ছবিতে যে এলাকাগুলো উজ্জ্বল লাল ছিল, ২০২৬ সালে তা অনেকটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। এর মানে হলো সেখানে গাছপালা বা কৃষিজমি কমেছে। সেই জায়গাগুলো এখন নির্মাণাধীন এলাকা বা কংক্রিটে ঢাকা পড়ে গেছে। ঢাকার চারপাশের জনবসতি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষিজমি ও জলাভূমি গ্রাস করে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন ভবন ও রাস্তা।

ইএসএ জানিয়েছে, বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুতবর্ধনশীল মহানগরীর মধ্যে ঢাকা অন্যতম। বিশ্বের অন্যান্য বড় শহরের মতো ঢাকাও এখন অপরিকল্পিত নগরায়ণের চ্যালেঞ্জের মুখে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে শহরের ভেতরে যেমন চাপ বাড়ছে, তেমনি প্রান্তিক অঞ্চলের কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক সম্পদও হারিয়ে যাচ্ছে। কোপার্নিকাস সেন্টিনেল-২ মিশন মূলত সঠিক নগরায়ণ পর্যবেক্ষণে সাহায্য করে। এটি নগর–পরিকল্পনাবিদদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়। এ ছাড়া এই মিশন জমির ব্যবহার, বনভূমির অবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলো তদারকিতে ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা