পৃথিবী ধ্বংসের বিষয়ে বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী
২০০১ সালের নাইন-ইলেভেন হামলা থেকে শুরু করে করোনা মহামারি, এমন অনেক ঘটনার নির্ভুল পূর্বাভাস দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন বুলগেরিয়ার রহস্যময়ী অন্ধ নারী বাবা ভাঙ্গা। প্রায় ৩০ বছর আগে মৃত্যু হলেও তিনি পৃথিবীর ধ্বংসের সম্ভাব্য সময় নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। বলকানের নস্ট্রাদামাস–খ্যাত এই ভবিষ্যদ্বক্তার মতে, ৫০৭৯ সালে এক অকল্পনীয় মহাজাগতিক ঘটনার মাধ্যমে মানব সভ্যতা ও এই মহাবিশ্বের চূড়ান্ত বিলুপ্তি ঘটবে।
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, চূড়ান্ত ধ্বংসের আগে মানব জাতি এক দীর্ঘ বিবর্তনের পথ পাড়ি দেবে। যেখানে তারা সৌরজগৎ জয় করবে এবং ভিনগ্রহের প্রাণীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলবে। ৩০০৫ সালে মঙ্গলগ্রহে এক ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হবে। এই যুদ্ধের তীব্রতা এত বেশি হবে যে তা গ্রহের কক্ষপথ পর্যন্ত বদলে দেবে। ৩০১০ সালে চাঁদের সঙ্গে একটি ধূমকেতু বা গ্রহাণুর সংঘর্ষ ঘটবে। এর ফলে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়া ধ্বংসাবশেষ থেকে পৃথিবীর চারপাশে শনির মতো একটি বলয় তৈরি হবে। ৩৭৯৭ সালে পৃথিবী থেকে প্রাণের অস্তিত্ব চিরতরে মুছে যাবে। তবে তার আগেই মানুষ অন্য কোনো গ্রহে বসতি স্থাপন করতে সক্ষম হবে। ৩৮০৩-৩৮০৫ সালে সীমিত সম্পদের দখল নিয়ে ভিনগ্রহে থাকা মানুষের মধ্যে চরম যুদ্ধ হবে। এতে অর্ধেক মানব জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং সভ্যতা ধসের মুখে পড়বে। ৩৮১৫ থেকে ৩৮৭৮ সালে মানুষ আবার আদিম গোত্রভিত্তিক সমাজে ফিরে যাবে। এরপর ৪৩০০ থেকে ৪৫০০ সালে মানব সভ্যতার নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা হবে। মানুষ সব দূরারোগ্য ব্যাধির প্রতিকার খুঁজে পাবে। ৫০৭৯ সালে মানুষ মহাবিশ্বের শেষ সীমানা খুঁজে পাবে। সেই সীমানা অতিক্রম করার চেষ্টা বা অন্য কোনো অজানা মহাজাগতিক বিপর্যয়ে ঘটবে চূড়ান্ত ধ্বংসের দিন।
১৯১১ সালে বুলগেরিয়ায় জন্ম নেওয়া এই রহস্যময়ীর আসল নাম ভ্যাঞ্জেলিয়া পান্ডেভা দিমিত্রোভা। ১২ বছর বয়সে এক ভয়াবহ টর্নেডোর কবলে পড়ে তিনি তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারান। তাঁর সমর্থকদের দাবি, এর পর থেকেই তাঁর মধ্যে অলৌকিক ক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ দেখার শক্তির উদ্ভব ঘটে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনার বিষয়ে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী ফলে গেছে বলে ভক্তরা বিশ্বাস করেন।
বিশ্বজুড়ে বাবা ভাঙ্গার লাখ লাখ অনুসারী রয়েছেন, তবে গবেষক ও বিজ্ঞানীরা এসব ভবিষ্যদ্বাণীকে কেবল জল্পনা হিসেবেই দেখেন। তাঁদের মতে, বাবা ভাঙ্গা নিজে কোনো কিছু লিখে যাননি। তাঁর অনেক ভবিষ্যদ্বাণীই তাঁর আত্মীয় বা অনুসারীদের মাধ্যমে লোকমুখে প্রচলিত হয়েছে। তাই অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর কথাগুলোকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ রয়েছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল