ঢাকায় অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ ইয়ং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস

ইয়ং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেসে বিজয়ীরাছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থসামাজিক সমস্যায় তরুণ বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করার প্রয়োজন। এ জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস আয়োজন করে ষষ্ঠ ইয়ং সায়েন্টিস্ট কংগ্রেস। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে চার শতাধিক দেশি-বিদেশি গবেষক ও বিশেষজ্ঞেরা অংশগ্রহণ করেন। এবারের কংগ্রেসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য তরুণ বিজ্ঞানী।

বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক জেড এন তাহমিদা বেগমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। এবারের কংগ্রেসের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আমেরিকার রচেস্টার ইউনিভার্সিটির এহসান হকের বিশেষ বক্তৃতা। তাঁর ‘এআই নিয়ে’ শীর্ষক আলোচনায় এআইয়ের নানা ধরনের ব্যবহার নিয়ে আলাপ করা হয়। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বাংলাদেশে একটি স্মার্ট ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

সম্মেলনে বিশেষ অধিবেশনে মানুষ বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) অধ্যাপক হাসান সারওয়ার, ট্রান্সলেশনাল এআই ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে বুয়েটের অধ্যাপক তানজিমা হাশেম এআই যুগে বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা নিয়ে বিশেষ আলোচনা করেন।

দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, গণিত ও ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞানের ওপর প্রায় ৩০০টি ওরাল এবং পোস্টার প্রেজেন্টেশন উপস্থাপিত হয়। এআই-ভিত্তিক মেটাবলিক স্ক্রিনিং, ডেঙ্গু জিনোমিকস ও থ্যালাসেমিয়া ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা উপস্থাপন করে তরুণ বিজ্ঞানীরা কংগ্রেসে পুরস্কার লাভ করেন। রিনাক রহমত ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত ও কম্পিউটারবিজ্ঞানে প্রথম স্থান, মো. মুহতাসিম মান্নান স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ফার্মাসিউটিক্যালসে দ্বিতীয় স্থান ও রুমানা মাহতারিন জীববিজ্ঞানে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। সম্মেলন থেকে জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় একটি জাতীয় এআই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে।