সমুদ্রসৈকতে ঝিনুক কোথা থেকে আসে
ঢেউ সরে গেলে সমুদ্রসৈকতের বালুতে ঝিনুক পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরিত্যক্ত এসব ঝিনুক একসময় কোনো না কোনো জীবিত প্রাণীর অংশ ছিল। সাধারণত ছোট এবং নরম দেহের প্রাণীরা রুক্ষ পরিবেশে নিজেদের রক্ষার জন্য এই শক্ত আবরণ ব্যবহার করে, যা আমাদের কাছে ঝিনুক নামে পরিচিত।
বেশির ভাগ ঝিনুকই শামুক, ক্লামস, অয়েস্টার ও মাসেলের মতো মলাস্কজাতীয় প্রাণীর। এই প্রাণীদের হাড় নেই ও এদের আত্মরক্ষার ক্ষমতাও খুব সীমিত। তারা খুব ধীরে নড়াচড়া করে। ফলে এই খোলস বা ঝিনুকই তাদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। এটি তারা বহন করে না; বরং এটি তাদের দেহের সঙ্গেই বড় হয়। সৈকতে যখন কোনো ঝিনুক পাওয়া যায়, তখন বুঝতে হবে এর ভেতরের প্রাণীটি আর বেঁচে নেই।
ঝিনুক শক্ত হলেও বিভিন্ন স্তর থাকে। বাইরের স্তরটি সাধারণত রুক্ষ এবং অনুজ্জ্বল হয়, যা প্রাথমিক আঘাতগুলো সহ্য করে। এর পরের স্তরটি অনেক বেশি শক্ত হওয়ায় সেখানে খনিজ ক্রিস্টাল থাকে, যা ঝিনুককে শক্তি জোগায়। প্রাণী দেহের সবচেয়ে কাছের স্তরটি মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়ে থাকে। একে নেকার বা মাদার অব পার্ল বলা হয়। এটি দেখতে নাজুক মনে হলেও বেশ মজবুত।
মলাস্কজাতীয় প্রাণী নিজেদের খোলস নিজেরাই তৈরি করে। এদের দেহের বাইরের দিকে ম্যান্টল নামের এক স্তর টিস্যু থাকে। এই ম্যান্টল থেকে প্রোটিন এবং খনিজ পদার্থ নির্গত হয়। এর প্রধান উপাদান হলো ক্যালসিয়াম কার্বোনেট। ডিমের খোসায় যে উপাদান থাকে, এটিও তাই। এখানে সব প্রোটিন একটি ফ্রেমের মতো কাজ করে এবং ক্যালসিয়াম কার্বোনেট সেই ফ্রেম পূর্ণ করে খোলসটিকে শক্ত করে তোলে। প্রাণীর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্তর স্তরে এই প্রক্রিয়াটি চলতে থাকে।
মলাস্কজাতীয় প্রাণী মারা যাওয়ার পর খোলসটি ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে বেড়ায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কোনোটি তীরে পৌঁছায় আবার কোনোটি মাঝপথেই ভেঙে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঝিনুকগুলো চূর্ণ হয়ে বালুতে পরিণত হয়। সাদা বালুর সৈকতগুলোর বেশির ভাগ বালুই আসলে ঝিনুকের ভাঙা অংশ। খালি ঝিনুক বাস্তুসংস্থানের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ছোট প্রাণীরা এগুলোকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে। ঝিনুক সৈকতের ক্ষয় রোধ করতে ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া