মহাকাশে রহস্যময় যে ধূমকেতুর সন্ধান পেতে সময় লেগেছিল প্রায় তিন দশক

ধূমকেতুফাইল ছবি: উইকিমিডিয়া

মহাকাশের বিশাল শূন্যতায় কোটি কোটি বস্তু ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রায় তিন দশক ধরে মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো ‘১৯৯৮ এসএইচ২’ নামের একটি বস্তুকে বিজ্ঞানীরা গ্রহাণু ভেবে আসছিলেন। কারণ, পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা বস্তুটিতে কোনো লেজ বা ধূলিকণার মেঘ দেখা যায়নি। এর গতিপথও পাথুরে বস্তুর মতো সাধারণ ছিল। তবে ২০২৫ সালে বিজ্ঞানীরা দেখেন, রহস্যময় বস্তুটি নির্দিষ্ট জায়গায় অবস্থান করছে না। মহাকর্ষ শক্তির হিসাব মিলিয়ে বস্তুটির সঠিক অবস্থানও ব্যাখ্যা করা যাচ্ছিল না। শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে পরীক্ষা করার পর দেখা গেল বস্তুটি থেকে একধরনের ধোঁয়া বের হচ্ছে। ফলে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন রহস্যময় বস্তুটি আসলে একটি দুর্বল ধূমকেতু। এত দিন ভুল করে একে গ্রহাণু বলা হয়েছিল। নেচার অ্যাস্ট্রোনমি সাময়িকীতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ১৯৯৮ সালে রহস্যময় বস্তুটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়। তখন একে সাধারণ গ্রহাণু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গত বছরের আগস্টে বস্তুটি পৃথিবীর কাছাকাছি আসায় বিজ্ঞানীরা গোল্ডস্টোন প্ল্যানেটারি রাডার সিস্টেম দিয়ে এর অবস্থান পরিমাপ করতে যান। তখন দেখা যায়, বস্তুটি কাঙ্ক্ষিত স্থান থেকে ১৫৩ আর্কসেকেন্ড দূরে রয়েছে। নেচার সাময়িকীর গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বস্তুটি কোনো অজানা শক্তিতে বেগ বৃদ্ধি করছিল। বস্তুর ওপর তাপ বিকিরণের তফাত থেকে বল তৈরি হতে পারে। একে ইয়ারকোভস্কি প্রভাব বলা হয়। কিন্তু এই গতি বৃদ্ধি সেই প্রভাবের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ছিল।

বিজ্ঞানীরা তখন বরফ গলে গ্যাস হওয়ার কথা ভাবেন। ভেতরের বরফ সূর্যের তাপে বাষ্পীভূত হয়ে বের হয়ে আসার সময় ধাক্কা দেয়। সেই ধাক্কায় গতিপথ বদলে যায়। একই সঙ্গে গ্যাস ও ধূলিকণা বের হয়ে লেজ তৈরি করে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কানাডা–ফ্রান্স–হাওয়াই টেলিস্কোপে এর ফ্যাকাশে লেজ স্পষ্ট দেখা যায়। একই সঙ্গে বস্তুটিকে ঘিরে থাকা ধূমকেতুর মেঘও ধরা পড়ে। এরপর ধূমকেতুটিকে নামকরণ করা হয় পি/১৯৯৮ এসএইচ২।

গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমকেতুটি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়নি। ধাপে ধাপে বিস্ফোরিত হয়ে আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধূলিকণা নির্গত করেছে। জুলাইয়ে বস্তুটি সূর্যের সবচেয়ে কাছে এসেছিল। তার কয়েক সপ্তাহ পর এই প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বাইরের আবরণ ভেদ করে ভেতরে তাপ পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগেছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, মহাকাশে এ রকম অনেক অন্ধকার ধূমকেতু রয়েছে, যা দেখতে গ্রহাণুর মতো হলেও মহাকর্ষ নীতি এড়িয়ে চলে। এদের গতিপথ আগে থেকে নিখুঁতভাবে অনুমান করা বেশ কঠিন।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া