দূষিত বায়ু থেকে তৈরি হবে জীবাণুনাশক

নিজেদের তৈরি প্রকল্পের সঙ্গে আবদুল্লাহ আল নোমান (বাঁয়ে) ও আহম্মদ ইবনে রুহিত
ছবি: সংগৃহীত

দূষিত বায়ু মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। প্রতিদিন নিশ্বাসের সঙ্গে আমরা যেসব ক্ষতিকারক ধূলিকণা ও গ্যাস গ্রহণ করে থাকি, তা আমাদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাজধানী ঢাকায় এ সমস্যা বেশ প্রকট আকার ধারণ করায় প্রতিদিন কলেজে আসা-যাওয়ার পথে দূষিত বায়ুর কারণে বন্ধুদের অসুস্থ হতে দেখে সমাধানে আগ্রহী হয়ে ওঠে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান ও আহম্মদ ইবনে রুহিত। পটুয়াখালী ও বরগুনায় থেকে ঢাকায় আসা এই দুই কিশোর এরই মধ্যে দূষিত বায়ু থেকে জীবাণুনাশক তৈরির জন্য নেচার রিফাইনারি প্ল্যান্ট নামের একটি প্রকল্পের নকশাও করেছে। তাদের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দূষিত বায়ু থেকে জীবাণুনাশক থেকে শুরু করে জ্বালানি তৈরির সুযোগ রয়েছে।

যেভাবে দূষিত বায়ু থেকে তৈরি হবে জীবাণুনাশক

খুদে বিজ্ঞানী আবদুল্লাহ আল নোমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ আমাদের প্রকল্পের নাম নেচার রিফাইনারি প্ল্যান্ট। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা বাতাসে বিদ্যমান বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস, বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ উৎপাদনের একটি কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি উপস্থাপন করেছি। ডাইরেক্ট এয়ার ক্যাপচারের নামের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের চিমনি ও পরিশোধন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। কার্বন ডাই-অক্সাইড, লিথিয়াম, সোডিয়াম হাইড্রাক্সাইড, সোডিয়াম ক্লোরাইড ও পানি ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে মিথেন ও লিথিয়াম বাইকার্বোনেট উৎপাদন করা সম্ভব। এখানে উৎপাদিত মিথেন একটি অত্যন্ত উৎকৃষ্ট ও কার্যকর জ্বালানি হিসেবে রান্নার কাজে, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। লিথিয়াম বাইকার্বোনেট চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে।’

অন্য খুদে শিক্ষার্থী আহম্মদ ইবনে রুহিত বলেন, কিছু মানসিক ও স্নায়বিক রোগের চিকিৎসায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে ব্লিচিং পাউডার উৎপাদন করা যাবে। এই পাউডার দিয়ে জীবাণুনাশক উপাদান হিসেবে পানিশোধন, স্যানিটেশন এবং গৃহস্থালি ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা যাবে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পরিশোধন করে সেগুলোকে মানবকল্যাণে উপযোগী ও মূল্যবান পণ্যে রূপান্তর করা। এর ফলে একদিকে পরিবেশদূষণ হ্রাস পাবে, অন্যদিকে একটি নতুন শিল্প খাত গড়ে ওঠার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

অর্জন

দূষিত বায়ুকে কাজে লাগিয়ে ভিন্নমাত্রার প্রকল্প তৈরির জন্য এরই মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান ও আহম্মদ ইবনে রুহিতের তৈরি নেচার রিফাইনারি প্ল্যান্ট বেশ কয়েকটি জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় পুরস্কার অর্জন করেছে। হলিক্রস কলেজ সায়েন্স উৎসব ২০২৫ ও ২০২৪–এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের বিজ্ঞান উৎসব ২০২৫ ও নটর ডেম কলেজের ইকো ফেস্ট ২০২৫–এ প্রথম রানার আপও হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আবদুল্লাহ আল নোমানের বাবা মো. মোখলেছুর রহমান ও মা জান্নাতুল ফেরদৌস দুজনই শিক্ষক। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে নোমান বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমি চিকিৎসক হতে চাই। আমরা নিজেদের বিজ্ঞানে আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন বিজ্ঞান উৎসবে অংশ নেই। এ ধরনের বিজ্ঞানবিষয়ক প্রকল্প আমাদের বাস্তব সমস্যা বুঝতে দারুণ সুযোগ করে দিচ্ছে।’

রুহিতের বাবা মো. আসাদুজ্জামান ব্যবসায়ী ও মা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ও সাবেক প্রাইমারি শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদাউস। রুহিত বলেন, ‘বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলার কাজ আমার খুব পছন্দ। ভবিষ্যতে আমি একজন ডাক্তার হতে চাই। পাশাপাশি আমি পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করতে আগ্রহী।’