প্রখ্যাত গিটারবাদক স্ল্যাশের নামে নতুন প্রজাতির সাপের নামকরণ

গিটারিস্ট স্ল্যাশের (ডানে) নামে সাপের নামকরণ হয়েছেছবি: জ্যান কপরিভা/ক্রিপিং ডেট্থ

পাপুয়া নিউগিনির গভীর জঙ্গল থেকে আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির একটি অবিষধর সাপের নামকরণ করা হয়েছে বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড গানস এন রোজেসের গিটারবাদক সল হাডসনের নামে। তিনি বিশ্বজুড়ে স্ল্যাশ নামে পরিচিত। শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের গবেষকেরা এ বিষয়ে গবেষণা চালিয়েছেন। সাপের প্রতি এই রক তারকার দীর্ঘদিনের গভীর ভালোবাসা এবং প্রকৃতির ইতিহাসের প্রতি অনুরাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে নতুন এই প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে লেইল্যাফিস স্ল্যাশি।

এই নামকরণের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে দারুণ এক গল্প। ফিল্ড মিউজিয়ামের হার্পেটোলজি বা উভচর ও সরীসৃপবিদ্যা বিভাগের সহযোগী কিউরেটর এবং এই গবেষণার প্রধান গবেষক সারা রুয়ানে শৈশব থেকেই গানস এন রোজেস ব্যান্ডের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। মাত্র ১২ বছর বয়সে রেপটাইলস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে পোষা অজগর সাপ হাতে স্ল্যাশের একটি ছবি দেখে তিনি দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হন। পরবর্তী সময়ে ওই ম্যাগাজিনে প্রকাশিত স্ল্যাশের একটি সাক্ষাৎকার পড়েন, যেখানে তিনি শৈশবে সাপ খোঁজা, জাদুঘর ও চিড়িয়াখানার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছিলেন। সেই শৈশবের ভালো লাগা থেকেই গবেষক সারা রুয়ানে যখন নিউগিনিতে নতুন এই সাপের সন্ধান পান, তখন এর নামকরণের জন্য স্ল্যাশকে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করেন। নিজের নামে নতুন সাপের প্রজাতি আবিষ্কারের এই সম্মান পেয়ে আনন্দিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বয়ং স্ল্যাশ।

১৯৯৪ সালে স্ল্যাশেস স্নেকপিট নামে একটি রক ব্যান্ডও গড়ে তুলেছিলেন স্ল্যাশ। যার সঙ্গে সাপের একটি পুরোনো যোগসূত্র রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্রিস অস্টিন ২০০৬ সালে নিউগিনিতে রাতের বেলা ফিল্ডওয়ার্ক বা মাঠপর্যায়ের গবেষণার সময় প্রথম এই অদ্ভুত সাপটির মুখোমুখি হন। পরবর্তী সময়ে ফিল্ড মিউজিয়ামের গবেষক তিয়ানকি হুয়াং এবং সারা রুয়ানেসহ অন্যরা বিভিন্ন জিনগত বিশ্লেষণ, ফিজিক্যাল বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং ইকোলজিক্যাল বা পরিবেশগত মডেলিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হন যে এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজাতি। নিউগিনির ক্রান্তীয় বনাঞ্চলের এই সাপটি লম্বায় প্রায় ২৮ ইঞ্চি (প্রায় ৭১ সেন্টিমিটার) এবং এর রং লালচে-বাদামি। এটি সম্পূর্ণ অবিষধর এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়।

নিশাচর প্রকৃতির এই সাপ সাধারণত সন্ধ্যার পর বড় গাছের গোড়ার দিকে খাবার খুঁজতে বের হয়। এদের মুখের পেছনের দিকে বড় দাঁত থাকে, যা দিয়ে এরা মূলত ছোট টিকটিকি বা সরীসৃপের ডিম শিকার করে খায়। গবেষকদের মতে, কফি চাষ এবং খনি নির্মাণের কারণে নিউগিনির এই অনন্য বন্য প্রাণীর আবাসস্থল হুমকির মুখে রয়েছে। তাই এ ধরনের নতুন প্রজাতি আবিষ্কার ও সংরক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ যার অস্তিত্বই জানা নেই, তাকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এই গবেষণার পুরো বিবরণটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী জুট্যাক্সায় প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া