মহাকাশে ধাতব মেঘের খোঁজ

মহাকাশফাইল ছবি: রয়টার্স

মহাকাশের একটি নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা হঠাৎ করেই প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা একটি মধ্যবয়সী নক্ষত্রকে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখতে পান, একটি বিশাল মেঘ নক্ষত্রের আলো প্রায় ৯ মাস ধরে ঢেকে রেখেছিল। এটি কোনো সাধারণ মহাজাগতিক মেঘ নয়। ধারণা করা হচ্ছে, মেঘটি দ্রুতগামী বাষ্পীভূত ধাতব কণায় পরিপূর্ণ।

বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, অদ্ভুত এই ধাতব মেঘ একটি পরিণত গ্রহমণ্ডলীর ভেতরে ঘটা প্রলয়ংকরী কোনো সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ। এটি নক্ষত্রের ভেতরের কোনো পরিবর্তন নয়। ধারণা করা হচ্ছে, নক্ষত্র ও আমাদের পৃথিবীর মাঝখানে বিশাল কোনো কাঠামো বা মেঘ এসে বাধা তৈরি করেছে। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, গ্রহ তৈরির কোটি কোটি বছর পরও কোনো সৌরজগৎ স্থিতিশীল না-ও হতে পারে।

চিলির জেমিনি সাউথ টেলিস্কোপে থাকা অত্যাধুনিক ঘোস্ট যন্ত্রের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, অদ্ভুত এই ধাতব  মেঘে প্রচুর পরিমাণে ভারী ধাতু রয়েছে। মেঘটি প্রায় ১২ কোটি মাইল চওড়া এবং নক্ষত্র থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১২০ কোটি মাইল। এ বিষয়ে জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক নাদিয়া জাকামস্কা জানান, ঘোস্ট যন্ত্রের সংবেদনশীলতা এতটাই বেশি ছিল যে তাঁরা কেবল মেঘটির উপস্থিতিই টের পাননি, বরং এর ভেতরের গ্যাস ও ধাতুগুলো কোন দিকে কত বেগে ছুটছে, তা–ও পরিমাপ করা গেছে। স্পেকট্রোস্কোপির মাধ্যমে দেখা যায়, এই ধাতব গ্যাসগুলো স্থির নয়, বরং মেঘের ভেতরে প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, এই ধ্বংসাবশেষ মহাকাশে ভাসমান কোনো সাধারণ ধূলিকণা নয়। নক্ষত্রের চারপাশে ঘুরতে থাকা কোনো একটি অদৃশ্য বস্তুর চারদিকের একটি ঘূর্ণায়মান ডিস্ক।

বিজ্ঞানীরা জানান, ১৯৩৭ ও ১৯৮১ সালেও অদ্ভুত এই ধাতব মেঘের কারণে নক্ষত্রটির আলো ম্লান হয়েছিল; অর্থাৎ প্রতি ৪৪ বছর অন্তর নক্ষত্রটি ধাতব মেঘে ঢাকা পড়েছিল। এর মানে হলো, ওই রহস্যময় ধ্বংসাবশেষবাহী বস্তুটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘ কক্ষপথে আবর্তিত হচ্ছে এবং প্রতি ৪৪ বছর অন্তর আমাদের দৃষ্টিরেখায় চলে আসে। নক্ষত্রটির বয়স ২০০ কোটি বছরের বেশি, ফলে সেখানে ধূলিকণা থাকার কথা নয়।

সূত্র: আর্থ ডটকম